Legal Document

Title: Export Policy 2015-2018
Type: Policy
Issuing Agency: Ministry of Commerce
Responsible Agency: Ministry of Commerce
Issuing Date: 09-09-2015

রপ্তানি নীতি ২০১৫-২০১৮

বিষয় সূচি

প্রস্তাবনা

প্রথম অধ্যায় - শিরোনাম, লক্ষ্য, কলা-কৌশল, প্রয়োগ ও পরিধি

দ্বিতীয় অধ্যায় - রপ্তানির সাধারণ বিধানাবলী

তৃতীয়  অধ্যায় - রপ্তানি বহুমুখীকরণ

চতুর্থ  অধ্যায় - রপ্তানির সাধারণ সুযোগ- সুবিধা 

পঞ্চম অধ্যায় - রপ্তানির পণ্যভিত্তিক সুবিধাদি

ষষ্ঠ অধ্যায় - সেবা খাত 

সপ্তম অধ্যায় - রপ্তানি উন্নয়নের বিবিধ পদক্ষেপসমূহ 

পরিশিষ্ট-১ রপ্তানি নিষিদ্ধ পণ্য তালিকা

পরিশিষ্ট-২ শর্ত সাপেক্ষে রপ্তানি পণ্য তালিকা

 

প্রস্তাবনা

            দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান ও ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার উদ্দেশ্যে রপ্তানি বাণিজ্যে গতিশীলতা আনয়ন ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশের স্থান সুদৃঢ়করণসহ দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে বিকশিত করার ক্ষেত্রে রপ্তানি নীতির ভূমিকা অনস্বীকার্য। রপ্তানিমুখী শিল্পের উৎপাদন  ক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি পণ্যের গুণগতমান ও প্রতিযোগী মূল্য নিশ্চিত করা, পণ্য বহুমুখীকরণ ও বাজার সম্প্রসারণ, সম্ভাবনাময় তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক পণ্য ও সেবা রপ্তানির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান, প্রাধিকার নির্ধারণ, রপ্তানি সম্প্রসারণে বিদেশস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ, বাণিজ্যিক উইংসমূহের কার্যক্রমকে গতিশীল করা, সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে রপ্তানি নীতি ২০১৫-২০১৮-এ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

            দেশের রপ্তানি বাণিজ্য প্রসারে সরকার সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। এ উদ্দেশ্যে দেশে অধিক পরিমাণে শ্রম নির্ভর রপ্তানি শিল্প স্থাপন, শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক ও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদান, রপ্তানিকে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন ধরণের প্রণোদনা প্রদান, সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, রপ্তানিমুখী শিল্পে আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ইত্যাদি সরবরাহের ব্যবস্থা সহজীকরণ, রপ্তানি পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যাধুনিক পরীক্ষাগার স্থাপন, পণ্য ভিত্তিক শিল্প এলাকা বা ক্লাস্টার গড়ে তোলা, রপ্তানি শিল্পের পশ্চাৎ ও অগ্রসংযোগ শিল্প স্থাপনে সহায়তা প্রদান, বাজার সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন, রপ্তানিকারকদেরকে তাঁদের পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন নতুন প্রযুক্তির তথ্য ও বিভিন্ন বাজার সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য নিয়মিতভাবে সরবরাহকরণ, সহজভাবে রপ্তানি পণ্যের কাঁচামাল সংগ্রহের ব্যবস্থা, চট্টগ্রাম ও মংলা সামুদ্রিক বন্দরের সামগ্রিক উন্নয়নসহ মালামাল খালাস ও গ্রহণ পদ্ধতি সহজীকরণ, পানগাঁওসহ অন্যান্য নদী বন্দরের উন্নয়ন ও চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রপ্তানি বাণিজ্যের সকল কার্যক্রম সহজীকরণের বিষয় রপ্তানি নীতি ২০১৫-২০১৮ তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এবারের নীতিতে ICT, ঔষধ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ¨, এগ্রো-প্রডাক্ট, ভেষজ সামগ্রী, জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে উদীয়মান সম্ভাবনাময় খাত হিসাবে গণ্য করে এসকল বিষয়ে গৃহীত নীতিমালা পৃথক পৃথক উপ অধ্যায়ে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।

            দেশের নানা প্রতিকূল অবস্থা ও কমপ্লায়েন্স ইস্যুতে বৈশ্বিক চাপেও ২০১১-২০১২, ২০১২-২০১৩ ও ২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় যথাক্রমে ৫.৯৯%, ১১.২২% ও ১১.৬৯% বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৪-২০১৫ অর্থ বছরে নানা প্রতিকূলতার কারণে রপ্তানি কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রায় না পৌছালেও বিগত বছরের তুলনায় রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। রপ্তানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারের সহায়ক রপ্তানি নীতি ২০১২-২০১৫ এর অনুসরণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীজনের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। রপ্তানি বৃদ্ধির এ গতিধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে  দেশের প্রধান প্রধান শিল্প ও বণিক সমিতি, প্রধান প্রধান পণ্য ভিত্তিক সমিতি, বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংক, গবেষণা সংস্থা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি বিভাগ ও সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত পরামর্শ-প্রসূত সুপারিশের ভিত্তিতে রপ্তানি নীতি ২০১৫-২০১৮ প্রণীত হয়েছে। আশা করা যায়, এ রপ্তানি নীতির আলোকে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য পরিচালিত হলে দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানসহ ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীতকরণের লক্ষ্য অর্জিত হবে।

            হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা রূপকল্প ২০২১ ঘোষণা করেছেন। রুপকল্প ২০২১ এর পরিপ্রেক্ষিতে গৃহীত রপ্তানি কৌশলের আলোকে প্রণীত ২০১৫-১৮ অর্থ বছরের রপ্তানি নীতির মূল লক্ষ্য হলো:-

১।   বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, চার দেশীয় (বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভূটান) সম্ভাব্য উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ (Connectivity), বৈশ্বিক অবস্থার প্রেক্ষিত ও প্রয়োজনের সাথে সংগতি রেখে বাণিজ্য ব্যবস্থাকে  (Trade regime) যুগোপযোগী ও উদারীকরণ করা;

২।   আগামী ২০২১ সনের মধ্যে রপ্তানি আয় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীতকরণের লক্ষ্যাভিমুখী কার্যক্রম গ্রহণ;

৩।   ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং প্রেক্ষিত পরিকল্পনার আলোকে রপ্তানি বৃদ্ধি, পণ্য বাজার সম্প্রসারণ ও পণ্য বহুমুখীকরণ এবং বিভিন্ন দেশের সাথে যৌক্তিকভাবে বাণিজ্য ভারসাম্যের উন্নয়ন;

৪।   দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্য, অপ্রচলিত পণ্যসহ সব ধরণের পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি। কন্ট্রাক্ট ফার্মিং-এর মাধ্যমে একটি কমপ্লায়েন্ট সরবরাহ চেইন প্রতিষ্ঠা করা;

৫।   প্রতিযোগী মূল্যে মানসম্মত পণ্য রপ্তানির ব্যবস্থা করা, মান যাচাই পদ্ধতির বিশ্বমানে উন্নয়ন সাধনের বিষয়ে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ, পণ্যের মান উন্নয়ন, উন্নত, লাগসই ও পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার উৎসাহিতকরণ, উচ্চমূল্যের রপ্তানি পণ্য উৎপাদন ও ডিজাইনের উৎকর্ষ সাধন;

৬।   রপ্তানিমুখী শিল্পের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার মাধ্যমে রপ্তানি বাণিজ্য নির্বিঘ্নকরণ ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ়করণ;

৭।   রপ্তানিতে ICT সহ সেবা খাতের অংশ বৃদ্ধি, ই-কমার্স ও ই-গভর্নেন্স ব্যবহার করে রপ্তানি বাণিজ্যে গতিশীলতা আনয়ন;

৮।   শ্রমনির্ভর রপ্তানি পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করা। রপ্তানিমুখী শিল্প ও বাণিজ্যে নারীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি;

৯।   রপ্তানি বৃদ্ধির সুবিধার্থে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসসহ অবকাঠামোগত সুবিধা সহজলভ্য করা, বন্দরসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বন্দরমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন;

১০। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিকরণের জন্য ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের সংখ্যা বৃদ্ধি ও কার্যক্রম জোরদার করা;

১১। বৈদেশিক মিশনসমূহকে অধিকতর বাণিজ্যবান্ধব করে তোলা;

১২। বাংলাদেশের পণ্যের ব্রান্ডিং করা;

১৩। বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে অধিকতর বাণিজ্যবান্ধব ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং রপ্তানি বাণিজ্যে    অর্থায়নের ক্ষেত্রে ফ্যাক্টরিং সার্ভিসকে উrসাহিত করা;

১৪। আমদানি বিকল্প শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে রপ্তানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণ; এবং

১৫। রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধিতে রপ্তানি নির্ভর বৈদেশিক বিনিয়োগ উৎসাহিতকরণ।

 

প্রথম অধ্যায় - শিরোনাম, লক্ষ্য, কলা-কৌশল, প্রয়োগ ও পরিধি

১.০      শিরোনাম 

          এ নীতি রপ্তানি নীতি ২০১৫-১৮ নামে অভিহিত হবে।

১.১        রপ্তানি নীতির লক্ষ্য (Objectives):

১.১.১     বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা, চার দেশীয় (বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভূটান) সম্ভাব্য উপ-আঞ্চলিক যোগাযোগ (connectivity), বৈশ্বিক অবস্থার প্রেক্ষিত ও প্রয়োজনের সাথে সংগতি রেখে বাণিজ্য ব্যবস্থাকে  (trade regime) যুগোপযোগী ও উদারীকরণ করা;

১.১.২     আগামী ২০২১ সনের মধ্যে রপ্তানি আয় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীতকরণের লক্ষ্যাভিমুখী কার্যক্রম গ্রহণ;

১.১.৩    ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে ষষ্ঠ ও সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং প্রেক্ষিত পরিকল্পনার আলোকে রপ্তানি বৃদ্ধি, পণ্য বাজার সম্প্রসারণ ও পণ্য বহুমুখীকরণ এবং বিভিন্ন দেশের সাথে যৌক্তিকভাবে বাণিজ্য ভারসাম্যের উন্নয়ন;

১.১.৪     দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্য, অপ্রচলিত পণ্যসহ সব ধরণের পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি। কন্ট্রাক্ট ফার্মিং-এর মাধ্যমে একটি কমপ্লায়েন্ট সরবরাহ চেইন প্রতিষ্ঠা করা;

১.১.৫     প্রতিযোগী মূল্যে মানসম্মত পণ্য রপ্তানির ব্যবস্থা করা, মান যাচাই পদ্ধতি বিশ্বমানে উন্নীত করার বিষয়ে সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ, পণ্যের মান উন্নয়ন, উন্নত, লাগসই ও পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার উৎসাহিতকরণ, উচ্চমূল্যের রপ্তানি পণ্য উৎপাদন ও ডিজাইনের উৎকর্ষ সাধন;

১.১.৬    রপ্তানিমুখী শিল্পের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার মাধ্যমে রপ্তানি বাণিজ্য নির্বিঘ্নকরণ ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাণিজ্যে   বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ়করণ;

১.১.৭     রপ্তানিতে ICT সহ সেবা খাতের অংশ বৃদ্ধি, ই-কমার্স ও ই গভর্নেন্স ব্যবহার করে রপ্তানি বাণিজ্যে গতিশীলতা আনয়ন;

১.১.৮     শ্রমনির্ভর রপ্তানি পণ্য উৎপাদনে উৎসাহিত করা। রপ্তানিমুখী শিল্প ও বাণিজ্যে নারীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি;

১.১.৯     রপ্তানি বৃদ্ধির সুবিধার্থে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসসহ অবকাঠামোগত সুবিধা সহজলভ্য করা, বন্দরসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বন্দরমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন;

১.১.১০   সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও প্রাতিষ্ঠানিকরণের জন্য ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের সংখ্যা বৃদ্ধি ও কার্যক্রম জোরদার করা;

১.১.১১    বৈদেশিক মিশনসমূহকে অধিকতর বাণিজ্যবান্ধব করে তোলা;

১.১.১২   বাংলাদেশের পণ্যের ব্রান্ডিংকরা;

১.১.১৩   বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে অধিকতর বাণিজ্যবান্ধব ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং রপ্তানি বাণিজ্যে    অর্থায়নের ক্ষেত্রে ফ্যাক্টরিং সার্ভিসকে উrসাহিত করা;

১.১.১৪    আমদানি বিকল্প শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে রপ্তানি বাণিজ্যের সম্প্রসারণ;

১.১.১৫   রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধিতে রপ্তানি নির্ভর বৈদেশিক বিনিয়োগ উৎসাহিতকরণ;

১.১.১৬    রপ্তানি পণ্য উৎপাদনে দেশি-বিদেশি উৎস হতে কাঁচামাল প্রাপ্তি সহজলভ্য করা;

১.১.১৭   উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও পণ্যের বহুমুখীকরণ;

১.১.১৮    রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের জন্য নতুন বাজার অনুসন্ধান, নতুন কৌশল অবলম্বন ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্পর্কীয় তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ;

১.১.১৯    রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে উৎসাহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং ক্ষেত্রবিশেষে ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ গড়ে তুলতে সাহায্য করা;

১.১.২০    নতুন নতুন রপ্তানিকারক সৃষ্টি ও বিদ্যমান রপ্তানিকারকদেরকে সর্বতোভাবে সহায়তা প্রদান করা;

১.১.২১    উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনার জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করা; এবং

১.১.২২    পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রীতিনীতি সম্পর্কে বণিক সমিতি, ব্যবসায়ী সংগঠন, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে সম্যক ধারণা প্রদান করা।

১.২       বাস্তবায়ন কৌশল  (Implementation Strategy) :

১.২.১     রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো’র (ইপিবি) প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, সমুদ্র ও স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ, মৎস্য অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই, চা বোর্ড এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সক্ষমতা বিনির্মাণে সহায়তা প্রদান করা এবং সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ;

১.২.২    বিএফটিআই-এর উন্নয়ন সাধন;

১.২.৩    গবেষণা কার্যক্রমে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের সংযোগ সৃষ্টি;

১.২.৪     ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি জোরদার করে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমূহকে আধুনিকায়ন ও যুগোপযোগী করা;

১.২.৫    রপ্তানি সম্ভাবনাময় পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি উৎসাহিত করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন, পণ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে পণ্য ভিত্তিক গঠিত ৬টি বিজনেস প্রমোশন  কাউন্সিলের কার্যক্রম গতিশীল করার পাশাপাশি প্লাস্টিক পণ্যসহ অন্যান্য পণ্যের জন্যেও প্রয়োজনানুযায়ী  বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল গঠন করা;

১.২.৬    বিদেশে পণ্যের চাহিদা সংক্রান্ত মার্কেট ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কিত তথ্য, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, বাজার সম্প্রসারণ, উচ্চতর মূল্য প্রাপ্তি প্রভৃতি ক্ষেত্রে উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারকদেরকে সহায়তা প্রদান করা এবং রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোতে শক্তিশালী গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন;

১.২.৭     অটোমেশন ও ই-গভর্নেন্স প্রবর্তনের মাধ্যমে রপ্তানি সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে সহযোগিতা প্রদান করা;

১.২.৮    ব্যবসার ব্যয় কমিয়ে রপ্তানি পণ্যসমূহকে অধিকতর প্রতিযোগী করা, উৎপাদন বৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ এবং লীড টাইম কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ই-কমার্সসহ সকল আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে সামগ্রিক বাণিজ্য ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও আধুনিকীকরণে সহায়তা প্রদান করা;

১.২.৯   রপ্তানি বহুমুখীকরণে রপ্তানি বাজার ও প্রযুক্তি সম্পর্কে রপ্তানিকারকদেরকে হালনাগাদ তথ্য সরবরাহ করা;

১.২.১০    উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে শ্রমিক, কর্মচারী ও ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং আরো খাতভিত্তিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা;

১.২.১১    ট্রেডিং হাউস ও রপ্তানি হাউসসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে রপ্তানি উন্নয়নে উৎসাহ প্রদান করা;

১.২.১২    পণ্যের মান নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা প্রদান করা;

১.২.১৩    শ্রমিকদের কর্মস্থলের নিরাপত্তাসহ শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা;

১.২.১৪    পণ্যের ডিজাইন উন্নয়নে পণ্যভিত্তিক ডিজাইন সেন্টার স্থাপনে উৎসাহিত করা;

১.২.১৫    আন্তর্জাতিক ভাবে প্রচলিত বাণিজ্যিক/ব্যবসায়িক সুঅভ্যাস/সুরীতি (good practice/ethical business) অনুসরণে উৎসাহিত করা;

১.২.১৬    আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে সহায়তা করার লক্ষ্যে একক বাতায়ন সেবা কেন্দ্র (Single Window Service Centre) প্রবর্তন;

১.২.১৭    রপ্তানিকারকদেরকে organic পণ্য উৎপাদনের জন্য সার্বিক সহায়তা প্রদান করা;

১.২.১৮    ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পকে বিশেষ সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা;

১.২.১৯    আমদানিকারক দেশসমূহের কর্মপদ্ধতির সংগে রপ্তানিকারকদের পরিচিতি বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদান করা;

১.২.২০    অপেক্ষাকৃত নিম্ন সুদ হারে রপ্তানি ঋণ প্রদানসহ রপ্তানিকারকদেরকে বিভিন্ন আর্থিক ও আর্থিক প্রণোদনা (incentive) প্রদান করা;

১.২.২১   রপ্তানিতে লীড টাইম কমিয়ে আনার জন্য বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, পণ্য খালাস পদ্ধতি সহজীকরণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা এবং ওয়ানস্টপ সার্ভিস প্রবর্তন করে ব্যবসার ব্যয় (cost of doing business) কমিয়ে আনার মাধ্যমে রপ্তনিকারকদের প্রতিযোগিতার শক্তি বৃদ্ধির সহায়ক পদক্ষেপ নেয়া;

১.২.২২    পণ্য পরিচিতি (product branding) ও বহুমুখীকরণ (diversification)-এর জন্য নতুন নতুন বাজার অন্বেষণ উদ্যোগের আওতায় বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী পণ্যের একক মেলা আয়োজন ও আন্তর্জাতিক মেলায় যোগদানের ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকদেরকে সহায়তা প্রদান করা, বিদেশে বাণিজ্য প্রতিনিধিদল প্রেরণ করা, বিদেশ হতে আগত ক্রেতা প্রতিষ্ঠান/ব্যবসায়ী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত বাণিজ্যিক মিশন গ্রহণ এবং পণ্যের বাজার study করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

১.২.২৩   বিদেশে বাংলাদেশী পণ্য ও সেবা খাতের বাজার সম্প্রসারণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা  পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ গ্রহণ করা;

১.২.২৪    দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, ব্রাজিল, মেক্সিকো, চিলি, দক্ষিণ  আফ্রিকা, রাশিয়াসহ বিভিন্ন সিআইএস দেশ, সার্কভুক্ত দেশ,  এসএডিসিভুক্ত (South African Developing Countries) দেশে পণ্য সেবা খাতে রপ্তানি বৃদ্ধিতে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া, প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিকট সমাদৃত পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধির  ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

১.২.২৫    নতুন নতুন পণ্য উৎপাদন, পণ্য বহুমুখীকরণ, অধিক পণ্য রপ্তানি ইত্যাদি কর্মকান্ডের জন্য বিভিন্ন খাতে প্রতি বছর শ্রেষ্ঠ রপ্তানিকারকদেরকে সিআইপি মর্যাদা ও জাতীয় রপ্তানি ট্রফি প্রদান করা;

১.২.২৬   ‘‘রপ্তানি সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি’’ কর্তৃক প্রতি বছর নিয়মিতভাবে এক বা একাধিকবার দেশের রপ্তানি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা এবং বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করা;

১.২.২৭    ‘‘রপ্তানি সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি’’ এর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য গঠিত ‍‘টাস্ক ফোর্স’ কর্তৃক নিয়মিতভাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিং ও মূল্যায়ন করা;

১.২.২৮   ভাইস-চেয়ারম্যান, রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো-এর সভাপতিত্বে এফবিসিসিআইসহ বেসরকারী খাতের প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত ‘রপ্তানি মনিটরিং কমিটি’ কর্তৃক রপ্তানির বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও তা সমাধানের উপায় সম্পর্কে সুপারিশ প্রণয়নপূর্বক বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে উচ্চতর পর্যায়ে উপস্থাপন করা; এবং

১.২.২৯    সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহ ও শীর্ষ ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে রপ্তানি নীতি ২০১৫-২০১৮ মনিটরিং-এর জন্য “রপ্তানি নীতি মনিটরিং কমিটি” গঠন, কমিটি কর্তৃক রপ্তানি নীতির বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা, প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান; এবং

১.২.৩০   বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে  রপ্তানি সেল প্রতিষ্ঠা।

১.৩       প্রয়োগ ও পরিধিঃ

১.৩.১    ভিন্নরূপ উল্লিখিত না হলে রপ্তানি নীতি ২০১৫-১৮ বাংলাদেশ হতে সকল ধরণের পণ্য ও সেবা রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে;

১.৩.২     রপ্তানি নীতি ২০১৫-২০১৮ প্রকাশের দিন হতে ৩০ জুন, ২০১৮ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। তবে পরবর্তী রপ্তানি নীতি জারি না হওয়া পর্যন্ত এ রপ্তানি নীতি কার্যকর থাকবে;

১.৩.৩    রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা ছাড়া বাংলাদেশের অন্যান্য সকল এলাকায় নীতি  প্রযোজ্য হবে;

১.৩.৪      শুল্ক ও কর সংক্রান্ত কোন বিষয়ে জাতীয় বাজেট ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ঘোষিত সিদ্ধান্ত রপ্তানি নীতির উপর প্রাধান্য পাবে;

১.৩.৫     এ নীতিতে যা কিছু থাকুক না কেন, অন্য কোন সরকারি আদেশে রপ্তানি সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট কোন সিদ্ধান্ত জারি করা হলে তা যদি এ রপ্তানি নীতির কোন বিধানের সহিত অসংগতিপূর্ণ হয়, তবে উক্ত সরকারি আদেশ রপ্তানি নীতির উপর প্রাধান্য পাবে; এবং

১.৩.৬     সরকার বছরে অন্ততঃ একবার নীতি পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজনে নীতির যে কোন পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধন করতে পারবে।

দ্বিতীয় অধ্যায় - রপ্তানির সাধারণ বিধানাবলী

২.০      পণ্য রপ্তানিতে প্রতিপালনীয় বিধি-বিধান-

            বাংলাদেশ হতে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নীতিতে বর্ণিত অথবা এতদবিষয়ক অন্য কোন আইনে বর্ণিত শর্তাবলী, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময়ে সময়ে জারিকৃত বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় সংক্রান্ত বিধি-বিধান ও নিয়মাবলী পালন এবং এর আওতায় নির্ধারিত দলিলাদি দাখিল করতে হবে।

২.১       পণ্য রপ্তানি নিয়ন্ত্রণঃ এ নীতির অধীনে পণ্যের রপ্তানি নিম্নরূপভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে, যথাঃ-

২.১.১      রপ্তানি নিষিদ্ধ পণ্য- ভিন্নরূপ উল্লিখিত না হলে, এ নীতিতে উল্লিখিত রপ্তানি নিষিদ্ধ পণ্য সামগ্রী রপ্তানি করা যাবে না। রপ্তানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা পরিশিষ্ট-১ এ প্রদত্ত হয়েছে; এবং

২.১.২      শর্ত সাপেক্ষে রপ্তানি- যে সকল পণ্য কতিপয় শর্ত পালন সাপেক্ষে রপ্তানিযোগ্য সে সকল পণ্য উক্ত বিধান পালন সাপেক্ষে রপ্তানি করা যাবে। শর্ত সাপেক্ষে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের তালিকা পরিশিষ্ট-২ এ দেখানো হলো।

২.২        রপ্তানিযোগ্য পণ্যঃ ভিন্নরূপ উল্লিখিত না হলে, পরিশিষ্ট-১ এ উল্লিখিত রপ্তানি নিষিদ্ধ পণ্য এবং পরিশিষ্ট-২ এ যে সকল পণ্য কতিপয় বিধান পালন সাপেক্ষে রপ্তানির কথা বলা হয়েছে সে সকল পণ্য ব্যতীত অন্যান্য পণ্য অবাধে রপ্তানিযোগ্য হবে।

২.২.১   এ নীতিতে বর্ণিত বিধি-বিধান নিম্ন বর্ণিত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না-

২.২.১.১   বিদেশগামী জাহাজ, যান অথবা বিমানের ভান্ডার (store), যন্ত্রপাতি (equipment) অথবা মেশিনের যন্ত্রাংশ এবং রন্ধনশালার অংশ হিসাবে ঘোষিত পণ্য অথবা নাবিক অথবা উক্ত জাহাজ, যান অথবা বিমানের ক্রু ও যাত্রীদের সংগে বহনকৃত ব্যাগেজ;

             ২.২.১.২  নিম্নোক্ত শর্তাদি পালন সাপেক্ষে নমুনা (sample) রপ্তানি-

          (অ) নিষিদ্ধ তালিকা বহির্ভূত সকল পণ্য;

(আ) এফওবি (Freight on Board) মূল্যের ভিত্তিতে প্রতি রপ্তানিকারক কর্তৃক বার্ষিক সর্বাধিক ১০,০০০/- মার্কিন ডলারের             পণ্য (ঔষধ ব্যতীত);

            (ই)  নমুনা হিসাবে বিনা মূল্যে প্রেরিত পণ্য, তবে শর্ত থাকে যে, ঔষধের ক্ষেত্রেঃ

(১) রপ্তানি এলসি (Letter of Credit) বা ঋণপত্র ব্যতিরেকে কোনো নিবন্ধিত রপ্তানিকারক, যারা        নিবন্ধিত রপ্তানিকারক এসোসিয়েশনের সদস্য, বছরে সর্বোচ্চ ৭০,০০০ মার্কিন ডলার, অথবা

(২) প্রতি এলসি বা ঋণপত্রের বিপরীতে মোট এলসি/ ঋণপত্র মূল্যের ১০% বা সর্বোচ্চ ১৫,০০০ মার্কিন  ডলারের ঔষধ যেটি কম হবে;

            (৩) প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক কেস টু কেস পরীক্ষা করে এ সীমা বৃদ্ধি করতে পারবে।

      (ঈ) বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতি সাপেক্ষে ১০০% রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প কর্তৃক বার্ষিক সর্বোচ্চ ১৫,০০০/- মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরী পোশাকের নমুনা;

            (উ) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট হতে বন্ড লাইসেন্স প্রাপ্ত বন্ডেড হীরা প্রক্রিয়াকারক প্রতিষ্ঠান অথবা মূসক (ভ্যাট) কমিশনারেট হতে উৎপাদক হিসাবে মূসক নিবন্ধিত হীরা/হীরা খচিত স্বর্ণালংকার প্রক্রিয়াকারক প্রতিষ্ঠান বিদেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ অথবা রপ্তানি বাজার উন্নয়নকল্পে প্রদর্শনীর নিমিত্ত বার্ষিক ৬০,০০০(ষাট হাজার) মার্কিন ডলার মূল্যের কাট ও পলিশড হীরা এবং হীরা খচিত স্বর্ণালংকার নমুনা হিসেবে প্রেরণ করতে পারবে এবং প্রদর্শনী শেষে তা দেশে ফেরৎ আনতে হবে। তবে প্রদর্শনী শেষে-তা বিক্রয় করা হলে বিক্রিত অর্থ বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে প্রত্যাবাসন করতে হবে। প্রত্যাবাসিত অর্থের পরিমাণ নমুনা হিসাবে প্রেরিত মূল্যের কম হতে পারবে না;

(ঊ) প্রমোশনাল মেটেরিয়্যালের (ব্রশিউয়্যার, পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার ইত্যাদি) ক্ষেত্রে যে কোন মূল্য বা ওজন;

           (ঋ) ২,০০০/- (দুই হাজার) মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ টাকার উপহার সামগ্রী বা গিফট পার্সেল;

            (এ) বাংলাদেশের বাইরে ভ্রমণকারী ব্যক্তির বৈধ (bonafide) ব্যাগেজ; এবং

            (ঐ) সরকার কর্তৃক ত্রাণ সামগ্রী হিসাবে রপ্তানি পণ্য ।

২.২.২     ‘‘নমুনা’’ বা স্যাম্পল বলতে বাণিজ্যিক মূল্যহীন সহজে সনাক্তযোগ্য সীমিত পরিমাণ পণ্যকে বুঝাবে; এবং

২.২.৩     ‘‘গিফ‌্ট পার্সেল’’ বলতে By Air, ডাকযোগে অথবা কুরিয়ার সার্ভিসে প্রেরিত কোন উপহার সামগ্রীকে বুঝাবে।

২.৩      রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার ক্ষমতাঃ উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে সরকার পরিশিষ্ট-১ এ বর্ণিত কোন নিষিদ্ধ পণ্য রপ্তানির অনুমতি প্রদান করতে পারবে। এ ছাড়া সরকার বিশেষ বিবেচনায় কোন পণ্য রপ্তানি, রপ্তানি-কাম-আমদানি অথবা পুনঃরপ্তানির অনুমতিপত্র (authorization) জারি করতে পারবে।

২.৪         অন্ট্রাপো ও পুনঃরপ্তানিঃ

২.৪.১     ‘‘অন্ট্রাপো বাণিজ্য’’ অর্থ এরূপ বাণিজ্য যে ক্ষেত্রে আমদানিকৃত কোন পণ্যের গুণগতমান, পরিমাণ, আকৃতিসহ কোন প্রকার পরিবর্তন ব্যতিরেকে পণ্য মূল্য অন্যূন ৫% এর অধিক মূল্যে তৃতীয় কোন দেশে রপ্তানি করা হয়, যা বন্দর সীমানার বাইরে আনা যাবে না, তবে অন্য কোন বন্দরের মাধ্যমে রপ্তানির উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে এক বন্দর হতে অন্য বন্দরে পণ্য পরিবহন করা যেতে পারে;

২.৪.২    অন্ট্রাপো বাণিজ্যের লক্ষ্যে আমদানিঃ আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর হতে প্রদত্ত import permit on returnable basis এর মাধ্যমে ক্রেতা কর্তৃক প্রদেয় ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের বিপরীতে অন্ট্রাপো বাণিজ্যের নিমিত্ত পণ্য আমদানি করা যাবে এবং উক্তরূপ অন্ট্রাপো আমদানির ক্ষেত্রে পণ্যের ঘোষণায় অন্ট্রাপো বা সাময়িক আমদানি (Temporary        Import) কথাটি উল্লেখ থাকতে হবে;

২.৪.৩    আমদানি ও রপ্তানি বন্দর একই হলে আমদানিকৃত পণ্য বন্দরের বাইরে নেয়া যাবে না;

২.৪.৪     আমদানি ও রপ্তানি বন্দর ভিন্ন হলে ডিউটি ড্র-ব্যাকের আওতায় শুল্ককর পরিশোধ অথবা ১০০% ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে শুল্ক             কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে রপ্তানি বন্দরে স্থানান্তর পূর্বক নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পণ্য রপ্তানি করতে হবে;

২.৪.৫    অন্ট্রাপো’র আওতায় ‍Òআমদানি মূল্য’’ বলতে বাংলাদেশের বন্দরে আমদানিকৃত পণ্যের ঘোষিত সিএফআর (Cost and Freight) মূল্যকে বুঝাবে;

২.৪.৬     ‘‘পুনঃরপ্তানি’’ অর্থ স্থানীয়ভাবে পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে পণ্যের গুণগত মান বা আকৃতির যে কোন একটির অথবা উভয়ের পরিবর্তনপূর্বক আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যের সাথে ন্যূনতম ১০% মূল্য সংযোজনপূর্বক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য রপ্তানি করাকে বুঝাবে;

২.৪.৭      এক্ষেত্রে আমদানি মূল্য বলতে পুনঃরপ্তানির জন্য বাংলাদেশের বন্দরে আমদানিকৃত পণ্যের সিএফআর মূল্যকে বুঝাবে;

২.৪.৮    তৈরী পোশাক রপ্তানির পর ত্রুটিপূর্ণ হওয়ায় তা ফেরত আসলে বন্দর হতে খালাস ও পুনঃরপ্তানির ক্ষেত্রেঃ

(১) বন্ডেড ওয়্যারহাউসের ক্ষেত্রে যে সকল তৈরী পোশাক রপ্তানি করা হয়েছে তা ত্রুটিযুক্ত হওয়ায় অথবা অন্য কোন কারণে তা ফেরত আসার প্রেক্ষিতে বন্দর হতে খালাস ও পুনঃরপ্তানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট লিয়েন ব্যাংক ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের অনাপত্তির ভিত্তিতে আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রক (সিসিআইএন্ডই) কর্তৃক তা খালাস ও পুনঃ রপ্তানির জন্য ছাড়পত্র  প্রদান করা হবে।

(২) বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স বিহীন অথবা স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহারপূর্বক রপ্তানিকৃত ত্রুটিযুক্ত তৈরী পোশাক ফেরত আসলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ ১ (এক) বছরের মধ্যে পুনঃরপ্তানি করার অঙ্গীকারনামার ভিত্তিতে প্রধান আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের ছাড়পত্র গ্রহণপূর্বক রপ্তানিকৃত পণ্য ফেরত আনা যাবে। তবে, অঙ্গীকারনামা অনুযায়ী পণ্য পুনঃরপ্তানি করতে ব্যর্থ হলে প্রচলিত মূসক আইন অনুযায়ী স্থানীয় পর্যায়ে মূসক প্রদান সাপেক্ষে মূসক-১১ অনুযায়ী গৃহীত রেয়াতের সমপরিমাণ মূসক পরিশোধ সাপেক্ষে (শুধুমাত্র স্থানীয় কাপড়ের ক্ষেত্রে) স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা যাবে।

২.৪.৯      ত্রুটিযুক্ত কাপড় ফেরত প্রদানের ক্ষেত্রেঃ

(১) যে সকল ক্রুটিযুক্ত কাপড় সরবরাহকারী/রপ্তানিকারক কর্তৃক ফেরত নিতে আগ্রহী এবং বাংলাদেশ হতে কোন বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করা হয়নি সে সকল ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট লিয়েন ব্যাংক ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের অনাপত্তির ভিত্তিতে আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রক (সিসিআইএন্ডই) পুনঃরপ্তানির জন্য ছাড়পত্র প্রদান করবেন;

(২) যে সকল ত্রুটিযু্ক্ত কাপড় সরবরাহকারী/রপ্তানিকারক ফেরত নিতে আগ্রহী এবং ইতোমধ্যে বাংলাদেশ হতে বৈদেশিক মুদ্রায় মূল্য পরিশোধ করা হয়ে থাকলে Buyer-Seller এর দ্বিপাক্ষিক সম্মতিতে inventory প্রস্ত্ততের ভিত্তিতে ত্রুটিযুক্ত কাপড়ের পরিমাণ নির্দিষ্ট করতঃ তৎবাবদ বৈদেশিক মুদ্রা TT অথবা At sight LC এর মাধ্যমে পরিশোধ অথবা সমপরিমাণ পণ্য প্রতিস্থাপনের পর সংশ্লিষ্ট লিয়েন ব্যাংক ও শুল্ক কর্তৃপক্ষের অনাপত্তির ভিত্তিতে আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রক ত্রুটিযুক্ত কাপড় পুনঃ রপ্তানির ছাড়পত্র প্রদান করবেন।

 

২.৫       ভিন্নরূপ উল্লিখিত না হলে বিদেশী ক্রেতা কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ঋণপত্রের (এলসি) বিপরীতে রপ্তানি করা যাবে t

২.৫.১      ঋণপত্র (এলসি) ছাড়া রপ্তানির সুযোগঃ এলসি ছাড়াও বাইয়িং কন্ট্রাক্ট, চুক্তি, পার্চেজ অর্ডার কিংবা এ্যাডভান্সড পেমেন্টের বিপরীতে ব্যাংক হতে Exp (Export Permit) সংগ্রহের ভিত্তিতে রপ্তানি করা যাবে; অগ্রিম নগদায়নের ক্ষেত্রে কনসাইনমেন্ট ভিত্তিতে সকল প্রকার পণ্য এলসি ছাড়া রপ্তানির অনুমোদন দেয়া হবে। অগ্রিম নগদায়নের আওতায় TTও অন্তর্ভুক্ত থাকবে; এবং

২.৫.২     ‘‘বাইয়িং কণ্ট্রাক্ট’’ বলতে কোন পণ্য রপ্তানির উদ্দেশ্যে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিকে বুঝাবে।

২.৬        পুনঃ আমদানির জন্য সাময়িক রপ্তানিঃ

২.৬.১     (১) মেশিনারী, ইকুইপমেন্ট বা সিলিন্ডার মেরামত, রি-ফিলিং বা মেইনটেইন্যান্স ইত্যাদির জন্য বিদেশে প্রেরণের ক্ষেত্রে শুল্ক কর্তৃপক্ষের নিকট পণ্যের সমমূল্যের ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের (সিসিআইএন্ডই) নিকট হতে রপ্তানি-কাম-আমদানি পারমিট গ্রহণ করতে হবে;

              (২) উপর্যুক্ত বিধানাবলী শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং উক্তরূপ প্রযোজ্যতার ক্ষেত্রে পোষক (sponsor) কর্তৃপক্ষের সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অঙ্গীকারনামা দাখিল করতে হবে; এবং

             (৩) বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম টারবাইন (গিয়ারবক্সসহ বা ছাড়া) বা সমজাতীয় মেশিনারীর ক্ষেত্রে টারবাইন উৎপাদনকারী অথবা ওভারহলকারী (overhauling) প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পাদিত চুক্তিপত্রে শর্ত/ঋণপত্র মোতাবেক টারবাইন (গিয়ারবক্সসহ বা ছাড়া) ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানি করে তা প্রতিস্থাপন (replacement) পূর্বক মেয়াদ উত্তীর্ণ টারবাইন (গিয়ারবক্সসহ বা ছাড়া) সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে রপ্তানি করার জন্য আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের (সিসিআইএন্ডই) নিকট হতে রপ্তানি-কাম-আমদানি পারমিট গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে ওভারহলকারী (overhauling) প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি মোতাবেক ঋণপত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সার্ভিস চার্জ/প্রতিস্থাপন ব্যয় পরিশোধ করা যাবে।

২.৬.২     আমদানিকৃত পণ্য মেরামত, প্রতিস্থাপন অথবা শুধুমাত্র পুনঃভর্তির (refilling) উদ্দেশ্যে সিলিন্ডার ও আইএসও ট্যাংক সাময়িকভাবে রপ্তানি করা যাবে। তবে শর্ত থাকে যে, এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কার্যাদি সম্পাদনের পর পণ্য আমদানি করা হবে মর্মে রপ্তানিকালে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট ইন্ডেমনিটি বন্ড (indemnity bond) প্রদান করতে হবে;

২.৬.৩     বিক্রয় চুক্তি অনুযায়ী রপ্তানিকৃত পণ্যে ত্রুটি পাওয়া গেলে বাংলাদেশী রপ্তানিকারককে উক্ত পণ্যের প্রতিস্থাপক পণ্য রপ্তানির অনুমতি দেয়া হবে। তবে রপ্তানিকারককে নিম্নোক্ত দলিল কাস্টমস‌ কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দিতে হবেঃ

             (ক) বিক্রয় চুক্তির কপি;

             (খ) ক্রেতার নিকট হতে ত্রুটিযুক্ত পণ্যের বিবরণসম্বলিত পত্র; এবং

             (গ) কাস্টমস আইনের আওতায় পূরণীয় অন্য কোন শর্ত।

২.৬.৪     কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অথবা অন্য কোন ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারিকৃত carnete de passage অথবা কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিলকৃত উপযুক্ত ইন্ডেমনিটি বন্ডের বিপরীতে পুনঃ আমদানির শর্তে কোন ব্যক্তি বিদেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যানবাহন সংগে নিতে পারবেন।

২.৬.৫     ফ্রাস্ট্রেটেড কার্গো (frustrated cargo) পুনঃরপ্তানি- কাস্টমস্ এ্যাক্ট ১৯৬৯ এর বিধি-বিধান প্রতিপালন সাপেক্ষে ফ্রাস্ট্রেটেড কার্গো পুনঃরপ্তানি করা যাবে।

২.৬.৬     নির্মাণ, প্রকৌশল ও বৈদ্যুতিক কোম্পানী চুক্তি অনুসারে কার্য সম্পাদনের নিমিত্ত মেশিনারী ও সাজ-সরঞ্জামাদি নিম্নোক্ত শর্তসাপেক্ষে সাময়িকভাবে রপ্তানি-কাম-আমদানি করতে পারবেঃ

(ক) কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও এওয়ার্ডের কপি দাখিল করতে হবে; এবং

(খ) কাজ শেষে মেশিনারী ফেরৎ আনবে মর্মে প্রয়োজনীয় ইন্ডেমনিটি বন্ড প্রদান করতে হবে।

২.৭       প্রাক-জাহাজীকরণ বাধ্যবাধকতাঃ অন্যবিধ শর্ত না থাকলে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রাক-জাহাজীকরণ সনদপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়।

২.৮        মান নিয়ন্ত্রণ সনদপত্রঃ যে সকল পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণ সনদপত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক, সে সকল পণ্য রপ্তানিকালে যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষ (Bangladesh Standards And Testing Institution/ Department of Fisheries/ Department of Agricultural Extension/ Bangladesh Council of Scientific and Industrial Research/ অন্যান্য) কর্তৃক ইস্যুকৃত মান নিয়ন্ত্রণ সনদপত্র কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করতে হবে।

 

তৃতীয়  অধ্যায় - রপ্তানি বহুমুখীকরণ

৩.১       পণ্য ও সেবাখাত ভিত্তিক বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল গঠনঃ

৩.১.১      বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, পণ্যের মান উন্নয়ন ও নিশ্চিতকরণ, উপযুক্ত প্রযুক্তি আহরণ, কমপ্লায়েন্স প্রতিপালন, পণ্য বিপণন ইত্যাদি বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে কোম্পানী এ্যাক্ট ১৯৯৪-এর আওতায় কয়েকটি খাত (পণ্য ও সেবা) ভিত্তিক বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এ কাউন্সিলগুলোর কর্মকান্ড জোরদার ও সুসংহত করা ছাড়াও আরো কাউন্সিল গঠনে উৎসাহিত করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। পণ্য ও সেবা খাতভিত্তিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার জন্য প্রয়োজনে উন্নয়ন সহযোগিদের সাথে যৌথভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বর্ণিত উদ্যোগ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র রপ্তানি উন্নয়ন ও রপ্তানি প্রসার কর্মকান্ডের পরিপূরক হিসেবে বিবেচিত হবে।

৩.২      পণ্য ও সেবা খাতসমূহের শ্রেণীবিন্যাসঃ

৩.২.১     উৎপাদন ও সরবরাহ স্তর, রপ্তানি ক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় অবদান, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা সর্বোপরি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার ক্ষমতা বিবেচনায় এনে কতিপয় পণ্যকে ‘‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত’’ এবং অন্য কতিপয় পণ্যকে ‘‘বিশেষ উন্নয়নমূলক খাত’’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সরকার কর্তৃক সময় সময় এ তালিকার পরিবর্তন এবং এ সকল পণ্যের রপ্তানিকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিশেষ সুবিধা প্রদান করা যাবে।

৩.৩      সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত খাতঃ

৩.৩.১    সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রাপ্ত খাত বলতে সে সকল খাতকে বুঝাবে যেখানে রপ্তানির বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে অথচ বিবিধ কারণে এ সম্ভাবনাকে তেমন কাজে লাগানো যায়নি, তবে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিলে অধিকতর সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। যথাঃ

            (১) অধিকমূল্য সংযোজিত তৈরী পোশাক এবং গার্মেন্টস এক্সেসরিজ

             (২) সফটওয়্যার ও আইটি এনাবল সার্ভিসেস, আইসিটি পণ্য;

             (৩) ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য;

             (৪) জাহাজ নির্মাণ;

             (৫) জুতা ও চামড়াজাত পণ্য;

             (৬) পাটজাত পণ্য;

             (৭) প্লাস্টিক পণ্য;

             (৮) এগ্রো-প্রোডাক্টস ও এগ্রো-প্রসেস্‌ড পণ্য;

             (৯) ফার্নিচার;

             (১০) হোম টেক্সটাইল ও টেরিটাওয়েল;

             (১১) হোম ফার্নিশিং; এবং

             (১২) লাগেজ।

৩.৪       সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতসমূহকে প্রদেয় সুযোগ-সুবিধাঃ

৩.৪.১      অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হ্রাসকৃত সুদ হারে প্রকল্প ঋণ প্রদান করা;

৩.৪.২     আয়কর রেয়াত প্রদান করা;

৩.৪.৩     বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ইত্যাদি ইউটিলিটি সার্ভিসের ক্ষেত্রে ডব্লিউটিও’র এগ্রিমেন্ট অন এগ্রিকালচার এবং এগ্রিমেন্ট অন সাবসিডিজ এন্ড কাউন্টার ভেইলিং মেজারস্-এর সাথে সংগতিপূর্ণ সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা বা ভর্তুকি প্রদান করা;

৩.৪.৪      সহজ শর্তে ও হ্রাসকৃত সুদ হারে রপ্তানি ঋণ প্রদান করা;

৩.৪.৫     অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিমানে পরিবহনের সুযোগ প্রদান করা;

৩.৪.৬     শুল্ক প্রত্যর্পণ/বন্ড সুবিধা প্রদান করা;

৩.৪.৭      উৎপাদন ব্যয় সংকোচনের উদ্দেশ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সহায়ক শিল্প স্থাপনে সুবিধা প্রদান করা;

৩.৪.৮     পণ্যের মানোন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ও কারিগরী সুবিধা সম্প্রসারণ করা;

৩.৪.৯     কমপ্লায়েন্ট শিল্প স্থাপনে বিনা শুল্কে ইকুইপমেন্ট  আমদানির ব্যবস্থা করা; 

৩.৪.১০    পণ্য উৎপাদনে ও বাজারজাতকরণে সহায়তা প্রদান করা;

৩.৪.১১    বহির্বিশ্বে বাজার অম্বেষণে সহায়তা প্রদান করা; এবং

৩.৪.১২    বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা।

৩.৫      বিশেষ উন্নয়নমূলক খাতঃ

৩.৫.১     যে সকল পণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে অথচ পণ্যগুলোর উৎপাদন, সরবরাহ এবং রপ্তানি ভিত্তি সুসংহত নয় সে সকল পণ্যের রপ্তানি ভিত্তি সুদৃঢ়করণের লক্ষ্যে বিশেষ উন্নয়নমূলক খাতের অন্তর্ভুক্ত করা হবে;

৩.৫.২     নিম্নলিখিত পণ্যসমূহ বিশেষ উন্নয়নমূলক খাত হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হবেঃ

             (১) বহুমুখী পাটজাত পণ্য;

             (২) ইলেকট্রিক ও ইলেক্ট্রনিক পণ্য;

             (৩) সিরামিক পণ্য;

           (৪) লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য (অটো-পার্টস ও বাইসাইকেলসহ) ;

             (৫) মূল্য সংযোজিত হিমায়িত মৎস্য;

            (৬) পাঁপড়;

             (৭) প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং;

             (৮) অমসৃণ হীরা ও জুয়েলারি;

            (৯) পেপার ও পেপার প্রেডাক্টস;

             (১০) রাবার;

            (১১) রেশম সামগ্রী;

            (১২) হস্ত ও কারু পণ্য;

            (১৩) লুঙ্গিসহ তাঁত শিল্পজাত পণ্য ; এবং

             (১৪) নারিকেল ছোবড়া।

৩.৫.৩      বিশেষ উন্নয়নমূলক সেবা খাতঃ

             (১) পর্যটন শিল্প

             (২) আর্কিটেকচার, ইঞ্জিনিয়ারিং ও কনসালটেন্সী সার্ভিসেস।

৩.৬      বিশেষ উন্নয়নমূলক খাতকে প্রদেয় সুযোগ-সুবিধাঃ

৩.৬.১     অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অপেক্ষাকৃত হ্রাসকৃত হার সুদে প্রকল্প ঋণ প্রদান করা;

৩.৬.২     সহজ শর্তে ও অপেক্ষাকৃত হ্রাসকৃত হার সুদে রপ্তানি ঋণ প্রদানের বিষয় বিবেচনা করা;

৩.৬.৩     ডব্লিউটিও’র এগ্রিমেন্ট অন এগ্রিকালচার এবং এগ্রিমেন্ট অন সাবসিডিজ এন্ড কাউন্টার ভেইলিং মেজারস্-এর সাথে সংগতিপূর্ণ ভর্তুকি প্রদান করা;

৩.৬.৪     রেয়াতী হারে বিমানে পণ্য পরিবহনে প্রয়োজনীয় সুযোগ প্রদান করা;

৩.৬.৫     শুল্ক প্রত্যর্পণ/বন্ড সুবিধা প্রদান করা;

৩.৬.৬     উৎপাদন ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে সহায়ক শিল্প স্থাপনের সুবিধাসহ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও টেলিফোন সংযোগ প্রাপ্তিতে অগ্রাধিকার প্রদান করা;

৩.৬.৭     পণ্যের মানোন্নয়নের জন্য কারিগরী সুবিধা সম্প্রসারণ করা;

৩.৬.৮     পণ্যের বাজারজাতকরণে সহায়তা প্রদান করা;

৩.৬.৯     বহির্বিশ্বে বাজার অম্বেষণে সুবিধা প্রদান করা;

৩.৬.১০   বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ইত্যাদি ইউটিলিটি সার্ভিসের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা প্রদান করা;

৩.৬.১১   বিশেষ উন্নয়মূলক সেবা খাতকে এগিয়ে নেয়ার সুবিধা প্রদান করা; এবং

৩.৬.১২   বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা ।

৩.৭        পণ্য বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে আন্তঃখাত প্রকল্পঃ

৩.৭.১      পণ্য বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে আন্তঃখাত প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। উক্ত প্রকল্পের আওতায় রপ্তানি মূল্য প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে বন্ড ব্যবস্থা, ডিউটি-ড্র-ব্যাক, সাবসিডি ইত্যাদি বিষয় পর্যালোচনা করে দেখা হবে। অনুরূপভাবে এই প্রকল্পের আওতায় পণ্য উন্নয়ন ও বাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্য সহযোগিতা এবং রপ্তানি বাণিজ্যের অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা পরীক্ষা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণে প্রকল্প নেয়া;

৩.৭.২     অঞ্চলভিত্তিক দেশজ কাঁচামাল নির্ভর প্রতিযোগী মূল্যে পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্য ‘এক জেলা এক পণ্য’ কর্মসূচী জোরদার করা;

৩.৭.৩   পণ্য বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে ট্র্যাভিলিং ব্যাগ্‌স্ (Travelling Bags), খেলনা (Toys), হোম এ্যাপ্লায়েন্স, চশমার ফ্রেম ইত্যাদি পণ্য রপ্তানির উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারকরণ; এবং

৩.৭.৪   দেশে উrপাদিত সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির উপায় উদ্ভাবন।

৩.৮      পণ্য ও সেবা খাত ভিত্তিক বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল গঠন t

৩.৮.১     বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, পণ্যের মান উন্নয়ন ও নিশ্চিতকরণ, উপযুক্ত প্রযুক্তি আহরণ, কমপ্লায়েন্স প্রতিপালন, পণ্য বিপণন ইত্যাদি বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে কোম্পানী এ্যাক্ট ১৯৯৪-এর আওতায় কয়েকটি খাত (পণ্য ও সেবা) ভিত্তিক বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। এ কাউন্সিলগুলোর কর্মকান্ড জোরদার ও সুসংহত করা ছাড়াও আরো কাউন্সিল গঠন করা হবে।

চতুর্থ  অধ্যায় - রপ্তানির সাধারণ সুযোগ- সুবিধা 

 

৪.১        রপ্তানি থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবহারঃ

৪.১.১      রপ্তানিকারক রপ্তানি আয়ের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ তাদের রিটেনশন কোটায় বৈদেশিক মুদ্রা একাউন্টে জমা রাখতে পারেন, যার পরিমাণ সময়ে সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারণ করবে। বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ব্যবস্থায় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রিটেনশন কোটা হিসাবের স্থিতি দ্বারা প্রকৃত ব্যবসায়িক ব্যয় (bonafide business expenses) যেমন ব্যবসায়িক ভ্রমণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও সেমিনারে অংশ গ্রহণ, বিদেশে অফিস স্থাপন ও পরিচালন, উৎপাদন উপকরণাদি/মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি প্রভৃতি নির্বাহ করতে পারবে। এ ছাড়াও রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের নিমিত্ত আবশ্যক ব্যয় হিসেবে বিদেশস্থ বিপণন প্রতিনিধির পারিশ্রমিক কিংবা বিদেশী এজেন্টের কমিশন রিটেনশন কোটা হিসাবের স্থিতি দ্বারা নির্বাহ করা যাবে।

৪.২        রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলঃ

             ইপিবিতে একটি রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইপিএফ) থাকবে। এ তহবিল থেকে রপ্তানিকারকদেরকে নিম্নোক্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবেঃ

৪.২.১      পণ্য উৎপাদনের জন্য হ্রাসকৃত সুদে ও সহজ শর্তে ভেঞ্চার-ক্যাপিটাল প্রদান;

৪.২.২      পণ্যের উন্নয়ন ও বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে বিদেশী কারিগরী পরামর্শ এবং সেবা ও প্রযুক্তি গ্রহণে সহায়তা প্রদান;

৪.২.৩     বিদেশে বিপণন মিশন প্রেরণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণে সহায়তা প্রদান;

৪.২.৪      সম্ভাব্য ক্ষেত্রে বিদেশে প্রদর্শনী-কাম-বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন এবং ওয়্যারহাউজিং সুবিধা সৃষ্টিতে সহায়তা প্রদান;

৪.২.৫      কারিগরী দক্ষতা ও বিপণন ক্ষেত্রে উৎকর্ষ অর্জনের উদ্দেশ্যে বিদেশে পণ্য উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণে সহায়তা প্রদান; এবং

৪.২.৬     পণ্য ও সেবাসহ বাজার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান।

৪.৩       অন্যান্য আর্থিক সুবিধাঃ

৪.৩.১      রপ্তানিকারকদের নগদ সহায়তার পরিবর্তে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ইত্যাদি সার্ভিস খাতে প্রদেয় অর্থ রেয়াতী হারে পরিশোধের সুযোগ, সাবসিডি বা ভর্তুকি দেয়া যায় কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হবে;

৪.৩.২     সকল রপ্তানিমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে;

৪.৩.৩     ইন্ডাস্ট্রিয়াল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস চার্জ যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া হবে;

৪.৩.৪  রপ্তানির উদ্দেশ্যে উদ্ভিদজাত পণ্য প্যাকেজিং-এর ক্ষেত্রে নতুন কার্টুন (CFB) ব্যবহার করা হলে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে; এবং

৪.৩.৫     WTO এর বিধান এর সাথে সংগতি রেখে রপ্তানি সম্ভাবনাময় (emerging) খাত অর্থাৎ যে সকল খাত বর্তমানে পণ্য উৎপাদনে সক্ষম এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও তাদের চাহিদা রয়েছে সে সব খাত-এ নগদ সহায়তা প্রদান বিবেচনা করা হবে। তবে বর্তমানে প্রদেয় নগদ সহায়তা পণ্যওয়্যারী পর্যালোচনাপূর্বক সংযোজন ও বিয়োজনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৪.৪       রপ্তানির অর্থ সংস্থানঃ

৪.৪.১      রপ্তানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (Export Promotion Fund-EPF বা Export Development Fund-EDF) থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। EDF fund এর অর্থ পর্যায়ক্রমে  বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেয়া হবে;

৪.৪.২      তৈরী পোশাক ছাড়াও অন্যান্য রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যাক-টু ব্যাক ঋণপত্র খোলার সুবিধা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে; এবং

৪.৪.৩      রপ্তানি উন্নয়নের স্বার্থে ক্যাপিটাল মেশিনারীজ ও কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে  হ্রাসকৃত সুদ ও সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করা হবে।

৪.৫       রপ্তানি ঋণঃ

৪.৫.১      প্রত্যাহার অযোগ্য ঋণপত্র (irrevocable letter of credit) অথবা নিশ্চিত চুক্তির (confirmed contract) অধীনে রপ্তানিকারকগণ যাতে ঋণপত্র অথবা চুক্তিতে বর্ণিত অর্থের শতকরা ৯০ ভাগ ঋণ পেতে পারে, এ বিষয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করবে;

৪.৫.২      রপ্তানি সংক্রান্ত কার্যক্রম  দ্রুত সম্পাদন এবং ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য অনলাইন ব্যবস্থা বিস্তৃত করা হবে;

৪.৫.৩     রপ্তানি খাতে স্বাভাবিক ঋণ প্রবাহ অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে;

৪.৫.৪      পূর্ববর্তী বছরের রপ্তানি আয়ের সাফল্যের ভিত্তিতে ও ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের উপর নির্ভর করে রপ্তানি বৃদ্ধির বাস্তব ভিত্তিক সম্ভাবনা/পরিচালনার আলোকে ব্যাংক কর্তৃক রপ্তানিকারকের ক্যাশ ক্রেডিটসীমা নির্ধারণ করা হবে;

৪.৫.৫      প্রত্যাহার অযোগ্য ঋণপত্রের অধীনে সাইট-পেমেন্টের ভিত্তিতে যদি পণ্য রপ্তানি করা হয়, সে ক্ষেত্রে রপ্তানিকারককে প্রয়োজনীয় রপ্তানি দলিলপত্র জমা দেয়ার শর্তে বাণিজ্যিক ব্যাংক ওভারডিউ সুদ ধার্য করবে না;

৪.৫.৬     রপ্তানি খাতের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের নিমিত্ত বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ‘‘এক্সপোর্ট ক্রেডিট সেল’’ চালু করতে পারে। একইভাবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো রপ্তানির অর্থ সংস্থানের জন্য ‘‘বিশেষ ক্রেডিট ইউনিট’’ স্থাপন করবে;

৪.৫.৭      একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘‘রপ্তানি ঋণ মনিটরিং কমিটি’’ থাকবে এবং কমিটি রপ্তানি ঋণের চাহিদার পরিমাণ নির্ধারণ, ঋণ প্রবাহ পর্যালোচনা ও মনিটর করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নেতৃত্বে এই ‘‘রপ্তানি ঋণ মনিটরিং কমিটি’’র কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কমিটিতে শীর্ষ ব্যবসায়িক সংগঠনের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে;

৪.৫.৮     ব্যাংকসমূহের সার্ভিস চার্জ যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে;

৪.৫.৯      রাশিয়াসহ অন্যান্য সিআইএস দেশসমূহ, মিয়ানমার এবং ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রসারের প্রয়োজনে ব্যাংকিং সুবিধা স্থাপন/জোরদারকরণের উদ্যোগ নেয়া হবে;

৪.৫.১০    ‘‘এক্সপোর্ট ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কীম (ECGS)’’ এর অনুরূপ ফান্ড গঠন করে তার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত রপ্তানি প্রতিষ্ঠানকে যথাশীঘ্র আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হবে;

৪.৫.১১    অনুমোদিত ডিলার মূল ঋণপত্রের অধীনে স্থানীয় কাঁচামাল সরবরাহকারীদের অনুকূলে অভ্যন্তরীণ ব্যাক-টু ব্যাক এলসি খুলতে পারবে;

৪.৫.১২    রপ্তানি ক্ষেত্রে ব্যাংকসমূহের সুদের হার, এলসি কমিশন, বিবিধ সার্ভিস চার্জ, ব্যাংক গ্যারান্টি, কমিশন ইত্যাদি বাংলাদেশ ব্যাংক এর নির্দেশনা মোতাবেক সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা হবে;

৪.৫.১৩    রপ্তানিমুখী শিল্পে রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসএমই ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম চালু করার উদ্যোগ নেয়া হবে; এবং

৪.৫.১৪    রপ্তানিমুখী এসএমই-এর উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত স্বল্প সুদে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং এসএমই ফাউন্ডেশন উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

৪.৬       রেয়াতী বীমা প্রিমিয়ামঃ

৪.৬.১      রপ্তানিমুখী শিল্পে বিশেষ রেয়াতী হারে অগ্নি ও নৌ-বীমার প্রিমিয়াম নির্ধারণসহ তা সহজে দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে। এ ব্যবস্থায় রপ্তানিকারক জাহাজীকরণের পর প্রিমিয়াম পরিশোধে রেয়াত পেতে পারে।

৪.৭       নতুন শিল্পজাত পণ্য রপ্তানিতে উৎসাহব্যঞ্জক সুবিধা প্রদানঃ

৪.৭.১      নতুন শিল্পের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে উৎসাহব্যঞ্জক সুবিধা দেয়া হবে এবং এ ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজনের হার কমপক্ষে শতকরা ৪০ ভাগ হতে হবে; এবং

৪.৭.২      নতুন রপ্তানিমুখী শিল্পে বিশেষ রেয়াতী হারে অগ্নি ও নৌ বীমার প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হবে।

৪.৮       রপ্তানি শিল্পের ক্ষেত্রে বন্ড সুবিধাঃ

৪.৮.১      রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে বিবেচিত সকল শিল্পের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা দেয়ার বিষয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিবেচনা করবে।

৪.৯         নেইম-এর প্রচলনঃ অধিক মূল্য প্রাপ্তির লক্ষ্যে পণ্যের ব্রান্ড নেইম-এর প্রচলন উৎসাহিত করা হবে। ‘‍মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্রান্ডকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে প্রচার প্রচারনায় উৎসাহিত করা হবে।

৪.১০       শুল্ক বন্ড অথবা ডিউটি-ড্র ব্যাক এর পরিবর্তে রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাত, পোশাক এবং গার্মেন্টস এক্সসরিজের অনুকূলে বিকল্প সুবিধা প্রদানঃ

৪.১০.১    সরকার শুল্ক বন্ড অথবা ডিউটি-ড্র ব্যাক-এর পরিবর্তে রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্রখাত ও পোশাক শিল্পের অনুকূলে বিকল্প সুবিধা হিসেবে সাবসিডি (নগদ সহায়তা) দিতে পারে। সহায়তার হার সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে। এ সুবিধা অন্যান্য খাতেও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

৪.১১      রপ্তানি সহায়ক সার্ভিসের ওপর ভ্যাট প্রত্যর্পণ সহজীকরণঃ

৪.১১.১    রপ্তানি সহায়ক সার্ভিস যেমন, সি এন্ড এফ সেবা, টেলিফোন, টেলেক্স, ফ্যাক্স, বিদ্যুৎ, গ্যাস, বীমা- প্রিমিয়াম, শিপিং এজেন্ট কমিশন/বিলের ওপর পরিশোধিত ভ্যাট প্রত্যর্পণ করার সহজ পন্থা উদ্ভাবন করা হবে।

৪.১২     রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সাধারণ সুযোগ-সুবিধাঃ

৪.১২.১    উৎপাদিত পণ্যের ন্যূনতম ৮০% রপ্তানিকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য হবে এবং এগুলো ব্যাংক-ঋণসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে; 

৪.১২.২    উৎপাদিত পণ্যের ন্যূনতম ৮০% রপ্তানিকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে অবশিষ্ট ২০% পণ্যের শুল্ক ও কর নিরূপণ পদ্ধতি সহজীকরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে এবং শুল্ক ও কর পরিশোধের পর উক্ত ২০ % পণ্য স্থানীয় বাজারে বাজারজাতকরণের সুযোগ প্রদান করা হবে;

৪.১২.৩    অধিকতর compliant হওয়ার জন্য রপ্তানিকারকদেরকে কমপ্লায়েন্স সহায়ক যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য কম সুদে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান এবং বিনা শুল্কে  আমদানির সুযোগ প্রদান করা হবে;

৪.১২.৪    Effluent Treatment Plant (ETP) স্থাপনের জন্য বিনা শুল্কে ইকুপমেন্ট আমদানি এবং ETP প্লান্টে ব্যবহৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদি ও অন্যান্য উপাদান আমদানিতে সহায়তা প্রদান করা হবে; সেন্ট্রাল ETP করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের স্বল্পসুদে ও সহজ শর্তে ঋণ সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হবে;

৪.১২.৫    বিনা শুল্কে ফায়ার ডোর, অগ্নি নিয়ন্ত্রণ ও অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রসহ অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রাদি আমদানির সুযোগ প্রদান করা হবে;

৪.১২.৬    প্রধানতt রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য মূলধনী যন্ত্রপাতির ১০% খুচরা যন্ত্রাংশ প্রতি ২ বছর অন্তর  শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ দেয়া হবে; এবং

৪.১২.৭    রপ্তানিমুখী শিল্পে বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ ইউটিলিটি সার্ভিসসমূহ অগ্রাধিকার ও জরুরি ভিত্তিতে সংযোগসহ সেবা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসমূহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

৪.১৩     আকাশপথে শাক-সব্জিসহ প্লান্ট, ফল-মূল, ফুল ও  বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে হ্রাসকৃত হারে বিমান ভাড়ার সুবিধা প্রদানঃ

৪.১৩.১    শাক-সব্জিসহ প্লান্ট, ফল-মূল, ফুল ও  বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে হ্রাসকৃত হারে বিমান ভাড়ার সুবিধা দেয়ার বিষয়ে এয়ারলাইন্সসমূহ বিবেচনা করবে। তাছাড়া এ সকল পণ্য পরিবহনের জন্য কার্গো সার্ভিস চালু করা;

৪.১৩.২    চুক্তিবদ্ধ চাষ ও উত্তম কৃষি পদ্ধতির ভিত্তিতে মাঠ থেকে বাজার (farm to market) নীতি অনুসরণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা;

৪.১৩.৩   পঁচনশীল পণ্য হিসাবে তাজা শাক-সব্জী, ফল-মূল ও ফুল এর সজিবতা অক্ষুণ্ন রাখার নিমিত্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা;

৪.১৩.৪    পরিবহন ব্যবস্থা সহজলভ্য এবং সুলভ করার নিমিত্ত এয়ার কার্গো ভাড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে; এবং

৪.১৩.৫    রপ্তানি পণ্যের গুণগতমান অক্ষুন্ন রাখতে সকল রপ্তানিকারক কর্তৃক আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন একই ধরনের কার্টুন CFB (Corrugated Fibre Board) ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং এ খাতে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা।

৪.১৪      রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদেশী এয়ার-লাইন্স-এর কার্গো সার্ভিস সুবিধা সম্প্রসারণের জন্য রয়্যালটি প্রত্যাহারঃ

৪.১৪.১    শাক-সব্জি পরিবহনের রয়্যালটি গ্রহণ করা হয় না। একই ধরণের সুবিধা পান, ফুল  ও ফল-মূলসহ বিশেষ সুবিধা প্রাপ্ত উদ্ভিদজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বহাল রাখার উদ্যোগ নেয়া হবে; এবং

৪.১৪.২    বিদেশী এয়ার লাইন্স-এর কার্গো সার্ভিসে স্পেস বৃদ্ধি এবং যুক্তিসঙ্গত ভাড়ায় ফুল, ফল-মূল, শাক-সব্জি ও অন্যান্য উদ্ভিদজাত পণ্য বহন করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

৪.১৫     রপ্তানিমুখী ছোট ও মাঝারী খামারকে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সুবিধা প্রদানঃ

৪.১৫.১    রপ্তানির উদ্দেশ্যে শাক-সব্জি, ফল-মূল, তাজা ফুল, অর্কিড, অর্নামেন্টাল প্লান্ট প্রভৃতি উৎপাদন ও রপ্তানির লক্ষ্যে উৎসাহ প্রদানকল্পে ন্যূনতম ৫ (পাঁচ) একর পর্যন্ত  কৃষি খামারকে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সুবিধা দেয়া হবে;

৪.১৫.২    পণ্যের দ্রুত পঁচনরোধে কূলিং চেইন (cooling chain) স্থাপনকে উৎসাহিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে রিফার ভ্যান ও রিফার কনটেইনার আমদানিকে উৎসাহিত করা হবে।

৪.১৬     গবেষণা এবং উন্নয়নঃ

৪.১৬.১    রপ্তানি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের আমদানি করমুক্ত রাখার বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড পরীক্ষা করে দেখবে। রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো’র সুপারিশক্রমে গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহ এ সুবিধা ভোগের যোগ্য বিবেচিত হতে পারে।

৪.১৭       সাব-কণ্ট্রাক্টিং ভিত্তিক রপ্তানিতে উৎসাহ ও সুবিধাঃ

৪.১৭.১    প্রকৃত কার্যাদেশ লাভের পূর্বে যোগাযোগ, প্রতিনিধি প্রেরণ, বিদেশ ভ্রমণ, টেন্ডার ডকুমেন্ট ক্রয় ইত্যাদির জন্য কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সর্বোচ্চ বার্ষিক ব্যয়ের পরিমাণ নির্ধারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময়  প্রয়োজনীয় আদেশ জারি করবে;

৪.১৭.২    বিদেশে অফিস স্থাপন ও কর্মচারী নিয়োগের অনুমতি প্রদান; এবং

৪.১৭.৩    প্রকল্প বিশেষজ্ঞদের অনুকূলে ব্যক্তিগত প্রফেশনাল গ্যারান্টি/বীমা প্রদান করা হবে।

৪.১৮     মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা ও প্রাসংগিক সহায়তা প্রদানঃ

৪.১৮.১    বিদেশী বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশী পণ্যের আমদানিকারককে মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনের বাণিজ্যিক কর্মকর্তাগণকে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়/দূতাবাসে সুপারিশ প্রেরণ করতে পারবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়/পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যদি প্রয়োজন মনে করে, সে ক্ষেত্রে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সুপারিশ গ্রহণ করতে পারে;

৪.১৮.২    বাংলাদেশী রপ্তানিকারক/ব্যবসায়ীদের অন্য দেশের ভিসা প্রাপ্তিতে ইপিবি প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে। এ লক্ষ্যে ইপিবি-তে হেল্প ডেস্ক খোলা হবে; এবং

৪.১৮.৩   বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন এবং কমার্শিয়াল কাউন্সিলরগণ রপ্তানি বৃদ্ধির  জন্য তাদের কার্যক্রম আরোও গতিশীল করবেন, দেশীয় রপ্তানিকারকদের সাথে বিদেশী আমদানিকারকদের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে সহায়তা জোরদার করবেন।

৪.১৯     বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণঃ

৪.১৯.১    বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যবসা সংক্রান্ত বিশেষতঃ ডব্লিউটিও বিষয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক ওয়ার্কশপ ও সেমিনার আয়োজনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৪.২০     বিদেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও একক প্রদর্শনী আয়োজন এবং অন্যান্য বাজার উন্নয়ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণঃ

৪.২০.১    বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, একক দেশীয় প্রদর্শনী ও অন্যান্য বাজার উন্নয়ন কর্মসূচীতে এবং বিদেশে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে একক বাণিজ্য মেলা আয়োজনে উৎসাহব্যঞ্জক সুবিধা দেয়া হবে।

৪.২১     রপ্তানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ জোরদারঃ

৪.২১.১    রপ্তানি বাণিজ্যের বিধি-বিধান সম্পর্কে রপ্তানিকারককে অবহিত করার লক্ষ্যে রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালার আয়োজন করবে।

৪.২২    স্থায়ী মেলা কমপ্লেক্সবিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র নির্মাণঃ

৪.২২.১    রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রামে স্থায়ী মেলা কমপ্লেক্স  ও বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগ ত্বরান্বিত করা হবে;

৪.২২.২    বাজার অনুসন্ধান ও বিপণন দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও সুসংহত করার জন্য বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র থেকে সকল সহায়তা দেয়া হবে; এবং

৪.২৩     সাধারণ ও পণ্য ভিত্তিক মেলাঃ

.২৩.   বিদেশী ক্রেতাদের সমাগম ও তাদের নিকট রপ্তানি পণ্যের পরিচিতি বাড়ানোসহ ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য দেশে আন্তর্জাতিক মানের সাধারণ এবং পণ্যভিত্তিক মেলার আয়োজন করা হবে।

৪.২৪     পণ্য জাহাজীকরণঃ

৪.২৪.১    পণ্য জাহাজীকরণ/পরিবহন ব্যবস্থা সহজ করার ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেউ বিমান চার্টার করতে চাইলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়া হবে; এবং

৪.২৪.৩    আমদানি ও রপ্তানি পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে শুল্কায়ন সম্পর্কিত সেবাসমূহ দ্রুততর করার নিমিত্ত ওয়ান স্টপ ব্যবস্থাসহ অটোমেশন ও আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার আরো বৃদ্ধি করা  হবে ।

৪.২৫     সরাসরি বিমান-বুকিং ব্যবস্থাঃ

৪.২৫.১    দেশের উত্তরাঞ্চলের টাটকা শাক-সব্জি ও অন্যান্য পঁচনশীল পণ্য যাতে সহজে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো যায় এবং পণ্যের গুণগতমান অক্ষুণ্ন থাকে তার সুবিধার্থে রাজশাহী ও সৈয়দপুর বিমান বন্দর থেকে ঐ সকল পণ্যের সরাসরি বুকিং সুবিধা অব্যাহত থাকবে।

৪.২৬     অধিক হারে দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারে উৎসাহ প্রদানঃ

৪.২৬.১    কম্পোজিট নিট/হোসিয়ারী বস্ত্র ও পোশাক প্রস্ত্ততকারী ইউনিটগুলোকে অধিক হারে দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান করা হবে।  এছাড়া অন্যান্য শিল্পকেও অধিক হারে দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারে উৎসাহ প্রদান করা হবে।

৪.২৭     ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) স্থাপনঃ

৪.২৭.১    রপ্তানিকারকগণ যাতে সহজে প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন সেজন্য রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ট্রেড ইনফরমেশন সেন্টার (টিআইসি) কে আরও জোরদার ও আধুনিকীকরণ করা হবে।

৪.২৮      প্রচ্ছন্ন রপ্তানি-সুবিধাঃ

৪.২৮.১    প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রত্যক্ষ রপ্তানিকারকের ন্যায় ডিউটি ড্র-ব্যাকসহ রপ্তানির সকল সুযোগ-সুবিধা পাবে। রপ্তানি পণ্য উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত স্থানীয় কাঁচামাল এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে স্থাপিত শিল্প/ প্রকল্পে ব্যবহৃত স্থানীয় দ্রব্য ও কাঁচামাল ‘‘প্রচ্ছন্ন রপ্তানি’’ বলে বিবেচিত হবে; এবং

৪.২৮.২   টেন্ডার ব্যতিরেকে ক্রেতার নিকট সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রায় বিক্রয়কে ‍‍Òপ্রচ্ছন্ন রপ্তানি” গণ্য করে প্রয়োজনীয় সুযোগ প্রদানের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৪.২৯     বিবিধঃ

৪.২৯.১    ঢাকায় একটি ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন সেন্টার স্থাপনের ব্যবস্থা নেয়া হবে;

৪.২৯.২    বিদেশে বিশেষ ধরণের ওয়্যার হাউস স্থাপনসহ ট্রেডিং হাউস, এক্সপোর্ট হাউস, বাণিজ্য কেন্দ্র স্থাপন উৎসাহিত করা হবে;

৪.২৯.৩   রপ্তানির ক্ষেত্রে বাণিজ্য বিরোধ নিষ্পত্তিকল্পে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো’র সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হবে;

৪.২৯.৪    পণ্য ও সেবা খাতভিত্তিক উন্নয়ন ইনস্টিটিউট/কাউন্সিল স্থাপনে পদক্ষেপ নেয়া হবে। তাছাড়া বিভিন্ন কলেজ ও ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন কোর্সে রপ্তানি পণ্য ও সেবা খাত উন্নয়নের বিষয় অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে;

৪.২৯.৫    বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে রপ্তানিকারক কর্তৃক বিদেশে এজেন্সী নিয়োগ করার ব্যবস্থা নেয়া হবে;

৪.২৯.৬   ডব্লিউটিও-এর নীতিমালায় স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে প্রদত্ত সুবিধা চিহ্নিতকরণ এবং তা সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করার ব্যবস্থা নেয়া হবে;

৪.২৯.৭    রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে গুণগতমান অর্জনের জন্য আইএসও ৯০০০ এবং পরিবেশগত বিধি-নিষেধ সংক্রান্ত আইএসও ১৪০০০, খাদ্য নিরাপত্তা (FSMS) সংক্রান্ত আইএসও ২২,০০০ এবং জ্বালানী ও শক্তি সংক্রান্ত আইএসও ৫০০১  অর্জনে উৎসাহ প্রদান করা হবে;

৪.২৯.৮   আমদানি ও রপ্তানি সংক্রান্ত এলসি ও ইএক্সপি ফরমে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা অনুসৃত হারমোনাইজড কোড ব্যবহারের লক্ষ্যে রপ্তানি পণ্যের পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা সম্বলিত কোড ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে;

৪.২৯.৯    আর্থিক ও রাজস্ব সুযোগ-সুবিধাগুলি সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনমত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে;

৪.২৯.১০  কমলাপুর আইসিডি’র মাধ্যমে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থায় দিনের বেলায় কাভার্ড ভ্যান চলাচলের সুযোগ প্রদান করা হবে;

৪.২৯.১১  এগ্রো প্রোডাক্টস ও এগ্রো-প্রসেস্‌ড পণ্যসমূহের রপ্তানির লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ পরিবহনের ক্ষেত্রে নৌ-পথ, রেলপথ ও সড়ক পথে বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা করা হবে;

৪.২৯.১২  বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ও উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি/ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এবং জাতীয় ট্রেড পোর্টালের আওতায় একটি ডাটাব্যাংক প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করা হবে। এই ডাটাব্যাংক রপ্তানিকারক, আমদানিকারক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং অন্যান্য সরকারি - বেসরকারি  স্টেকহোল্ডারদেরকে তথ্য প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা করবে। এই ডাটাব্যাংকে নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের তথ্য-উপাত্ত থাকবেঃ

·        পণ্যভিত্তিক মূল্যমান এবং পরিমাণসহ রপ্তানি উপাত্ত ;

·        রপ্তানি মূল্য এবং খাতওয়ারী রপ্তানি আয় ;

·        দেশভিত্তিক পণ্য আমদানির পরিমাণ ও ব্যয়;

·        দেশভিত্তিক উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের (যেগুলো বাংলাদেশ উৎপাদন ও রপ্তানি করে থাকে) উৎপাদনের উপাত্ত;

·        আমদানি ও রপ্তানি মূল্য সূচক ;

·        বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী বিপণনকারীদের তালিকা;

·        পণ্যভিত্তিক চাহিদা ও সরবরাহের পার্থক্য;

·        খাতওয়ারী বিনিয়োগ ও অর্থায়নের উপাত্ত;

·        বিভিন্ন দেশে WTO, APTA, SAFTA-এর আওতায় প্রাপ্ত  GSP সুবিধা;

·        রুলস্ অব অরিজিন এর শর্তসমূহ;

·        স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারির শর্তসমূহ;

·        বিভিন্ন দেশের হালনাগাদ ট্যারিফ হার;

·        অন্যান্য।

 

পঞ্চম অধ্যায় - রপ্তানির পণ্যভিত্তিক সুবিধাদি

৫.১       তৈরী পোশাক শিল্পঃ

৫.১.১      বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, এলসিএল পণ্যসহ সকল পণ্য খালাস ও জাহাজীকরণ পদ্ধতি সহজীকরণ, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সমস্যার সমাধান ইত্যাদি কর্মকান্ডের মাধ্যমে তৈরী পোশাক রপ্তানির ‘লীড টাইম’ কমিয়ে আনার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে;

৫.১.২      উপযুক্ত অবকাঠামোগত ও ইউটিলিটি সুবিধাসহ একাধিক উপযুক্ত স্থানে বিশেষায়িত অঞ্চল/ ‘পোশাক পল্লী’ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে;

৫.১.৩     পোশাক শিল্প পল্লীতে বর্জ্য পানি শোধন প্ল্যান্ট (waste water treatment plant) স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে;

৫.১.৪      তৈরী পোশাক কারখানার কর্ম পরিবেশ উন্নয়ন, দুর্ঘটনাজনিত ঝুঁকি হ্রাসকরণ এবং কারখানা পর্যায়ে কমপ্লায়েন্স শর্ত প্রতিপালনে সহযোগিতা প্রদান করা হবে। তাছাড়া সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে নিয়ে একটি সমন্বিত ও যৌক্তিক কমপ্লায়েন্স নীতিমালা তৈরীর উদ্যোগ নেয়া হবে;

৫.১.৫      পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও পণ্য বহুমুখীকরণের জন্য বিভিন্ন মেয়াদি প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়া হবে;

৫.১.৬     শ্রমিক ও কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পণ্য বাজার তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে পণ্য বহুমুখীকরণের উপর গুরুত্ব  দেয়া হবে;

৫.১.৭      তৈরী পোশাকের বাজার সম্প্রসারণ ও সুসংহতকরণের জন্য ব্রাজিল, মেক্সিকো, দঃ আফ্রিকা, তুরস্ক, রাশিয়াসহ সিআইএসভুক্ত দেশ ও এসএডিসিভুক্ত বিভিন্ন দেশসহ  বিদেশে বিপণন মিশন প্রেরণ, একক দেশীয় বস্ত্র ও তৈরী পোশাক মেলার আয়োজন, আন্তর্জাতিক মেলার আয়োজন ও অংশ গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে;

৫.১.৮     ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প স্থাপনে উৎসাহ প্রদান করা হবে;

৫.১.৯      সংশ্লিষ্ট  প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আমদানিকৃত কাঁচামালের জন্য শুল্কের সমপরিমাণ ব্যাংক-গ্যারান্টি প্রদান সাপেক্ষে প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উল (artificial wool) দ্বারা বন্ড লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানকে বন্ডবহির্ভূত এলাকায় হাতে বোনা সোয়েটার রপ্তানির উদ্দেশ্যে উৎপাদনের সুযোগ দেয়া হবে;

৫.১.১০    দেশে তুলা সরবরাহ নির্বিঘ্ন ও নিশ্চিত রাখার লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি সদস্যদের সমন্বয়ে একটি পরামর্শক পরিষদ গঠন করা হবে;

৫.১.১১    বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত রপ্তানি উন্নয়ন     সংক্রান্ত আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক সমন্বিত করার উদ্যোগ নেয়া হবে;

৫.১.১২    দেশের সকল তৈরী পোশাক কারখানার জন্য বিভিন্ন দেশের এবং বিভিন্ন ধরণের ক্রেতাদের চাহিদা সমন্বয় করে ন্যূনতমভাবে পালনযোগ্য একটি Standard Unified Code of Compliance প্রণয়নের লক্ষ্যে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করবে; এবং

৫.১.১৩    তৈরী পোশাক ও গার্মেন্টস এক্সেসরিজসহ সকল রপ্তানি পণ্য উন্নয়ন ও ভবিষ্যত প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গবেষণা ও উন্নয়ন (research & development) কার্যক্রমের উপর জোর দিয়ে গবেষণার উদ্যোগ নেয়া হবে।

৫.২        হিমায়িত মৎস্য ও মৎস্য পণ্য শিল্পঃ

৫.২.১      প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে উন্নত সনাতনী পদ্ধতি (improved extensive) ও আধা নিবিড় (semi intensive) চিংড়ি ও মৎস্য চাষের পদ্ধতি অবলম্বন করে চিংড়ি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য চিংড়ি ও মৎস্য চাষীদেরকে স্বল্প সুদে সহজ কিস্তিতে  পরিশোধযোগ্য ঋণ প্রদান করা হবে;

৫.২.২     হিমায়িত খাদ্য খাতে মূল্য-সংযোজিত পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও রপ্তানির লক্ষ্যে ভেঞ্চার-ক্যাপিটাল প্রদান করা হবে;

৫.২.৩     পণ্যের উন্নতমান এবং এসপিএস (Sanitary and Phyto-sanitary) সংশ্লিষ্ট মান নিশ্চিতকরণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি বা যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন accredited টেস্টিং ল্যাবরেটরী প্রতিষ্ঠাসহ সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে;

৫.২.৪      হিমায়িত খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে বিনা শুল্কে অপরিহার্য মান নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রপাতি আমদানি উৎসাহিত করা হবে। মৎস্য অধিদপ্তর ও বিসিএসআইআর তাদের accredited টেস্টিং ল্যাবরেটরী উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে;

৫.২.৫     হ্যাচিং থেকে মৎস্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও প্যাকেজিং-এর সকল পর্যায়ে একটি বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা বা ট্রেসেব্যালিটি (traceability) সিস্টেম গড়ে তোলা হবে যাতে করে দূষিত (contaminated) হিমায়িত খাদ্য রপ্তানির আশংকা কমিয়ে আনা যেতে পারে;

৫.২.৬     হিমায়িত খাদ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও সুসংহতকরণের জন্য বিদেশে বিপণন মিশন প্রেরণ, বিদেশে একক দেশীয় মেলার আয়োজন, দেশে ও বিদেশে আন্তর্জাতিক মেলার আয়োজন ও অংশ গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে;

৫.২.৭      আমদানিকৃত ফিশ-ফিড ব্যবহারের উপযোগী কি-না এবং তাতে কোন দূষিত বা নিষিদ্ধ উপাদান বা সাবসটেন্স আছে কিনা, তা পণ্য চালান খালাসের পূর্বে শুল্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিশ্চিত হতে হবে। BSTI ও মৎস্য অধিদপ্তর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে; মান যাচাই ব্যবস্থা উন্নততর ও বিস্তৃত করার জন্য মৎস্য অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে;

৫.২.৮     রপ্তানির উদ্দেশ্যে  আহরণোত্তর স্বাস্থ্যসম্মত চিংড়ি ও মrস্য  নিরাপত্তায় প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় দ্রুত পৌঁছার জন্য চিংড়ি ও মrস্য উৎপাদন এলাকায় Common Receiving Centre স্থাপনে প্রয়োজনীয় খাসজমি বরাদ্দ ও অবকাঠামো নির্মাণে স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে;

৫.২.৯     চিংড়ি ও মrস্য চাষ ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় কৃষি শস্যের অনুরূপ চিংড়ি ও মrস্য বীমা চালু করা হবে;

৫.২.১০    চিংড়ি ও মrস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে চাষাঞ্চলে বাঁধ সংস্কার, খাল খননসহ অন্যান্য অবকাঠামো তৈরিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা;

৫.২.১১    চিংড়ি ও মrস্য উৎপাদন বৃদ্ধিকল্পে পোনা, খাদ্য, বিদ্যুৎ ও কেমিক্যাল ইত্যাদিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের ব্যবস্থা নেয়া হবে;

৫.২.১২    চিংড়ি ও মৎস্য চাষীদেরকে উন্নত সনাতনী চিংড়ি ও মৎস্য চাষ ও আধা নিবিড় চিংড়ি ও মৎস্য চাষে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কর্মকৌশল গ্রহণ করা হবে;

৫.২.১৩   চিংড়ি ও মৎস্য চাষের উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের জনগণের প্রোটিন চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ২০২১ সালের মধ্যে রপ্তানি আয় ৫০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার লক্ষ্যে  মৎস্য ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া;

৫.২.১৪    Specific Pathogen Free (SPF) বা ভাইরাসমুক্ত চিংড়ি ও মৎস্য পোনা সরবরাহে প্রয়োজনীয় কারিগরী সহায়তা প্রদান করা হবে;

৫.২.১৫    Specific Pathogen Free (SPF) বা ভাইরাসমুক্ত চিংড়ি ও মৎস্য পোনা বিনা শুল্কে আমদানির ব্যবস্থা নেয়া হবে;

৫.২.১৬   দারিদ্র বিমোচনের জন্য নিবন্ধিত ক্ষুদ্র চিংড়ি ও মৎস্য চাষীদের স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেয়া হবে;

৫.২.১৭    বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ি (Black Tiger)-কে ‘‘জাতীয় ব্রান্ড’’ হিসেবে বিশ্বে তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে;

৫.২.১৮   রপ্তানিতে ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখে কাঁকড়া (Crab) ও কুঁচে (Eel) চাষের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া এ দু’টি ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াকরণ কারখানা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সহায়তা প্রদান করা হবে;

৫.২.১৯    ফরমালিন ও  অন্যান¨  কেমিক্যালমুক্ত চিংড়ি ও মৎস্য উৎপাদন ও বিপণনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে;

৫.২.২০   আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা ও Cost of Production নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে  চিংড়ি রপ্তানীতে ব্যাংক প্রদত্ত চলতি মূলধন ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৯% নির্ধারণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে; এবং

৫.২.২১    রুগ্ন অথচ কর্মক্ষম চিংড়ি এবং মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলোকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

৫.৩      দেশীয় উপাদানে তৈরি হস্তশিল্পঃ

৫.৩.১     ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে কারুপল্লী স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে;

৫.৩.২     হস্তশিল্পজাত পণ্যের কাঁচামাল সহজলভ্য করার জন্য বাঁশ, বেত, নারিকেল, তাল, কাঠ ইত্যাদি উপাদানের বাণিজ্যিক উৎপাদন উৎসাহিত করা হবে;

৫.৩.৩     বাঁশ, বেত, কচুরীপানা, নারিকেলের ছোবড়াসহ অন্যান্য দেশীয় উপাদান দ্বারা তৈরি মূল্য সংযোজিত পণ্য রপ্তানিকে উৎসাহিত করা হবে;

৫.৩.৪     হস্তশিল্পজাত  পণ্যের উৎপাদনে নতুনত্ব ও বৈচিত্রতা আনয়নের জন্য ডিজাইন বা নক্সা উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করা হবে। একটি নকশা কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে ব্যবস্থা নেয়া হবে। হস্তশিল্পজাত পণ্য রপ্তানির বিষয়ে বহুমাত্রিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হবে;

৫.৩.৫     হস্তশিল্পজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও সুসংহতকরণের জন্য বিদেশে বিপণন মিশন প্রেরণ, দেশে ও বিদেশে আন্তর্জাতিক মেলার আয়োজন ও অংশ গ্রহণের ব্যবস্থা করা;

৫.৩.৬     হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে হস্ত শিল্পজাত পণ্যের  ডিসপ্লে সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে; এবং

৫.৩.৭     হস্তশিল্পজাত পণ্যের উৎকর্ষ সাধনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৫.৪         চা শিল্পঃ

৫.৪.১      চা বাগানের আওতাধীন অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয়া হবে;

৫.৪.২      রুগ্ন চা বাগানগুলোর পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে;

৫.৪.৩     মূল্য প্রতিযোগী করার লক্ষ্যে চা বাগানগুলোর মধ্যে গ্যাস সংযোগের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে;

৫.৪.৪      যে সকল চা বাগানের ইজারা কার্যক্রম এখনও সম্পাদিত হয়নি, তা দ্রুত সম্পাদনে সার্বিক সহযোগিতা দেয়া হবে;

৫.৪.৫      আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার লক্ষ্যে চায়ের গুণগতমান উন্নয়ন ও চায়ের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য এবং চা  কারখানা আধুনিকীকরণের জন্য সহজ শর্তে ঋণ প্রদানে ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে;

৫.৪.৬     দারিদ্র বিমোচনের জন্য ক্ষুদ্রাকার খামারে চা উৎপাদনকারীদের ঋণ সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা দেয়া হবে;

৫.৪.৭      প্যাকেট-চা রপ্তানিকে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে আমদানিকৃত মোড়ক সামগ্রীর জন্য এফওবি মূল্যের ওপর বিধি মোতাবেক ডিউটি-ড্র-ব্যাক সুবিধা/বন্ড সুবিধা প্রদান করা হবে। এ ছাড়াও ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে বিনা শুল্কে মোড়ক সামগ্রী আমদানির সুযোগ দেয়া হবে;

৫.৪.৮     বিদেশে চায়ের বাজার সম্প্রসারণ ও সুসংহতকরণের জন্য বিদেশে বিপণন মিশন প্রেরণ, বিদেশে আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে;

৫.৪.৯      বিদেশে বাংলাদেশী চা বাজারজাতকরণে “শ্রীমঙ্গল টি” ব্র্যান্ড নেইম প্রতিষ্ঠার বিষয়ে বাংলাদেশ টি বোর্ড প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে; এবং

৫.৪.১০    চা রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে  ক্ষুদ্রায়তন চা চাষ সম্প্রসারণে সহায়তা প্রদান করা হবে।

৫.৫       পাট শিল্পঃ

৫.৫.১      বিদেশে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের বাজার সম্প্রসারণের  লক্ষ্যে বৈদেশিক মিশন সমূহকে গতিশীল করা, বিদেশে বিপণন মিশন প্রেরণ ও আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ গ্রহণের ব্যবস্থা করা;

৫.৫.২      মংলা বন্দর হতে বিভিন্ন রুটে ফিডার ভেসেল চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

৫.৫.৩     পাট পণ্যের রপ্তানিকারকদের বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করবে;

৫.৫.৪      পাটজাত পণ্যের উন্নয়ন ও বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার ও পাটকল বিএমআরই ও অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে পাট শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য সমন্বিত ‘প্ল্যান অব এ্যাকশন’ গ্রহণ করা হবে;

৫.৫.৫     বিভিন্ন দেশে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির প্রতিবন্ধকতাসমূহ চিহ্নিত করে তা দূরীকরণের পদক্ষেপ নেয়া হবে;

৫.৫.৬     বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমূহের মাধ্যমে পাটের পরিবেশ সহায়ক গুণাগুণ তুলে ধরে পাটের ব্যবহার আন্তর্জাতিক বাজারে জনপ্রিয় করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে;

৫.৫.৭      বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে পাট ও পাট পণ্যের রপ্তানিকারকদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনীতে যোগদানে সহায়তা দেয়া হবে;

৫.৫.৮     পাটজাত পণ্যে বৈচিত্র আনার লক্ষ্যে ডিজাইন সেন্টার স্থাপনে সরকারি সহায়তা প্রদান করা; এবং

৫.৫.৯     পাট পণ্যকে কৃষি পণ্যের ন্যায় সুযোগ প্রদানের উদ্যোগ নেয়া।

৫.৬      চামড়া শিল্পঃ

৫.৬.১     রুগ্ন চামড়া শিল্প কারখানাগুলোকে পলিসি সাপোর্টের মাধ্যমে ঋণ পুনঃতফশিলিকরণ সুবিধা প্রদান করা হবে;

৫.৬.২     উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও পণ্য উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের প্রতিযোগিতা (competition) করার শক্তি বৃদ্ধি করে রপ্তানি প্রসারের উদ্যোগ নেয়া হবে;

৫.৬.৩     আমদানি বিকল্প চামড়া প্রক্রিয়াকরণের জন্য আমদানি বিকল্প প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল তৈরী শিল্প, জুতার বিভিন্ন কম্পোনেন্ট ও চামড়া শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ (accessories) দেশীয়ভাবে উৎপাদনে উৎসাহিত করা হবে। এক্ষেত্রে বিদেশী বিনিয়োগ বা যৌথ বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে;

৫.৬.৪      পশুর শরীর থেকে চামড়া খালাস পদ্ধতি, প্রিজারভেশন, পরিবহন, সংরক্ষণ ইত্যাদির বিষয়ে বিভিন্ন প্রচারণা ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হবে যাতে করে চামড়া আহরণ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ পর্যায়ের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়। এক্ষেত্রে পৃথকভাবে কসাই ও চামড়া ব্যবসায়ীদের জন্য প্রশিক্ষণ কোর্স ও কর্মশালার আয়োজন অব্যাহত থাকবে;

৫.৬.৫     লেদার সেক্টর বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল এ শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিবে;

৫.৬.৬     চামড়াজাত পণ্য ও জুতা শিল্পে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও জয়েন্ট ভেঞ্চার ইনভেস্টমেন্টকে উৎসাহিত করা হবে;

৫.৬.৭     ১০০% রপ্তানিমুখী চামড়া শিল্পের জন্য বিদ্যমান বন্ড সুবিধা অধিকতর সহজ ও সময়োপযোগী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে;

৫.৬.৮     বিদ্যমান শুল্ক ও কর প্রত্যর্পণ পদ্ধতি সহজ করা হবে;

৫.৬.৯     চামড়াজাত পণ্যের উন্নয়ন ও বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার ও রু্গ্ন চামড়া শিল্পে বিএমআরই ও অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে চামড়া শিল্পের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য সমন্বিত ‘প্ল্যান অব এ্যাকশন’ গ্রহণ করা হবে;

৫.৬.১০   বাজার সৃষ্টির  লক্ষ্যে উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক মেলা ও প্রদর্শনীতে যোগদানে সহায়তা দেয়া হবে;

৫.৬.১১    দেশের প্রধান প্রধান শহরে পৌর/সিটি কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহায়তা নিয়ে উন্নত পদ্ধতিতে পশু জবাই এর মাধ্যমে উন্নত চামড়া প্রাপ্তির ব্যবস্থা নেয়া হবে;

৫.৬.১২   সাভারে নির্মাণাধীন চামড়া শিল্প পল্লীতে শিল্প ইউনিট স্থানান্তরে সম্ভাব্য সকল সহযোগিতা প্রদান করা হবে;

৫.৬.১৩   সাভারস্থ চামড়া শিল্প পল্লীতে কেন্দ্রীয়ভাবে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে এবং ক্লীন টেকনোলজি স্থাপনে উৎসাহিত করা হবে;

৫.৬.১৪    চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের গুণগতমান নিশ্চিত করার জন্য উন্নত রসায়নাগার স্থাপনসহ সার্ভিস সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে;

৫.৬.১৫    চামড়া শিল্পের ব্যবস্থাপনা সংকট উত্তরণের উদ্দেশ্যে উদ্যোক্তাদের জন্য দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে;

৫.৬.১৬   কাঁচা চামড়া সহজলভ্য করার জন্য দেশে গবাদি পশু পালন এবং লীন্ সিজনে (lean season) কাঁচা চামড়া আমদানি উৎসাহিত করা হবে;

৫.৬.১৭    চামড়া শিল্পে নিম্ন হারযুক্ত নাইট্রোজেন ও সোডিয়াম ক্লোরেট ব্যবহার উৎসাহিত করা হবে;

৫.৬.১৮   ট্যানারী মালিক ও এজেন্টদের মধ্যকার ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়তা করা হবে যাতে করে ট্যানারী মালিকদের সেলস্ নেগোশিয়েশন ও মার্কেটিং ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি পায়;

৫.৬.১৯   হাজারীবাগ থেকে সাভার ট্যানারী পল্লীতে শিল্প ইউনিট স্থানান্তরে এবং ট্যানারী মালিকদের ক্রাস্ট লেদার থেকে ফিনিশড্ লেদার উৎপাদনে সহায়তা করা হবে;

৫.৬.২০   জুতা ও চামড়াজাত পণ্যের বৈচিত্র আনার লক্ষ্যে ডিজাইন ডেভেলপমেন্ট সেন্টারটিকে আরো গতিশীল করার উদ্যোগ নেয়া হবে;

৫.৬.২১   রপ্তানিমুখী চামড়াজাত পণ্যের উন্নয়ন ও উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে ডিজাইন ও ফ্যাশন ইনস্টিটিউট স্থাপনসহ লেদার টেকনোলজি কলেজকে যুগোপযোগী করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে;

৫.৬.২২   বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ও প্রদর্শনীতে যোগদানে সহায়তা দেয়া হবে; এবং

৫.৬.২৩   চামড়া শিল্পের জন্য কেমিক্যাল ও অন্যান্য উপকরণ প্রাপ্তি সহজ ও নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৫.৭       মৃৎ শিল্পঃ

৫.৭.১      দেশের বিভিন্ন স্থানে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প উৎপাদন ও রপ্তানিতে  উৎসাহ প্রদান করা হবে;

৫.৭.২      মৃৎ শিল্প উৎপাদনে নতুনত্ব ও বৈচিত্রময়তা আনায়নের লক্ষ্যে ডিজাইন ও নকশা প্রণয়নে বিসিক সহায়তা প্রদান করবে; এবং

৫.৭.৩     মৃৎ শিল্প উন্নয়নের জন্য চারুকলা ইনস্টিটিউটসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় মৃৎ শিল্পীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৫.৮       কৃষি খাত t

৫.৮.১      উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্যের মান যাচাই ও  নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য পথ নকশা তৈরী করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের  উদ্ভিদ সংগনিরোধ বিভাগ এবং বিএসটিআই-সহ অন্যান্য মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা নেয়া হবে;

৫.৮.২     রপ্তানিযোগ্য শাক-সব্জি, আলু, পান ও আমসহ ফল-মূল, উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্য উৎপাদনের জন্য কণ্ট্রাক্ট ফার্মিংকে উৎসাহিত করা হবে;

৫.৮.৩     শাক-সব্জি, ফুল ও ফল-মূল ফলিয়েজ এবং উৎপাদনের জন্য উদ্যোগী রপ্তানিকারকের অনুকূলে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে সরকারি খাসজমি বরাদ্দ দেয়া এবং রপ্তানি পল্লী গঠনে উৎসাহিত করা হবে;

৫.৮.৪     শাক-সব্জি, ফুল ও ফলিয়েজ এবং ফল-মূল রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত প্যাকেজিং সামগ্রী উৎপাদনকে উৎসাহিত করা হবে;

৫.৮.৫     আলু, পান, আম ও অন্যান্য ফল-মূল ও শাক-সবজি রপ্তানিতে আমদানিকারক দেশের আমদানি চাহিদা (Phyto-sanitary Requirement) পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে;

৫.৮.৬     শাক-সব্জি, ফুল ও ফলিয়েজ এবং ফলমূল উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে;

৫.৮.৭     কৃষিভিত্তিক পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে সকল প্রকার সংক্রমণমুক্ত পণ্য রপ্তানির জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে। এক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মূল  ভূমিকা পালন করবে;

৫.৮.৮     পান রপ্তানির ক্ষেত্রে  স্যালমোনিলা মুক্ত পান প্রাপ্তির বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে;

৫.৮.৯     Cool Chain System অনুসরণপূর্বক ঢাকার শ্যামপুরে Central Warehouse এবং প্যাকিং সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে;

৫.৮.১০    আমদানিকারক দেশের আমদানি শর্ত পূরণ ব্যতীত যাতে উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্য রপ্তানি না হয় সে জন্য যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হবে এবং রপ্তানিকারক ও চাষীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অবহিতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে;

৫.৮.১১    রপ্তানিযোগ্য আলু, ফল-মূল ও শাক সবজি উrপাদনের জন্য বালাইমুক্ত এলাকা (Pest Free Area-PFA) এবং কম বালাই এর উপস্থিতি আছে (Area of Low Pest Prevalence-ALPP) এমন এলাকা তৈরীর জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে;

৫.৮.১২   উrপাদন এলাকাভিত্তিক প্যাকিং হাউজ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে; এবং

৫.৮.১৩   ফাইটোস্যানিটারি কার্যক্রমকে দক্ষ ও শক্তিশালী করে তোলার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ই-ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট প্রচলন ও বিস্তৃত করা হবে।

৫.৯       তথ্য প্রযুক্তিঃ

৫.৯.১      তথ্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশে আইসিটি’র সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে;

৫.৯.২     আইটি খাতের রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের সংগে যোগাযোগ জোরদারকরাসহ বিদেশে বিপণন কেন্দ্র খোলার সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখা হবে;

৫.৯.৩     সফটওয়্যার উৎপাদন ও রপ্তানির জন্য দেশে একটি ‘‘আইটি ভিলেজ’’ স্থাপনের উদ্যোগ জোরদার করা হবে;

৫.৯.৪      ন্যাশনাল আইটি ব্যাক-বোন-এর সাথে সাব-মেরিন ফাইবার অপটিক ক্যাবল সংযোগ, হাই স্পীড ডাটা ট্রান্সমিশন লাইন সহজলভ্য করা এবং আঞ্চলিকভাবে আইটি খাতের ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে;

৫.৯.৫     আইসিটি বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিলের মাধ্যমে আইসিটি খাতের উন্নয়নের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেয়া হবে;

৫.৯.৬     আইটি খাতের রপ্তানি প্রসারের জন্য বাংলাদেশের ICT Industry Branding এর লক্ষ্যে ইপিবি ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনসমূহের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে;

৫.৯.৭      আন্তর্জাতিক ও দর্শনীয় স্থানে আইটি মেলায় সফটওয়্যার প্রদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার ও ইকুপমেন্ট নিয়ে যাওয়া ও ফেরত আনার ব্যাপারে কাস্টমস, আমদানি ও রপ্তনি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর এবং  রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো সহায়তা করবে;

৫.৯.৮     এলসি এবং চুক্তি সম্পাদনের মত সফটওয়্যার ও আইটি খাতে Confirmed Work Order এর মাধ্যমে ব্যাংক চ্যানেলে আগত বৈদেশিক মুদ্রাকে রপ্তানি আয় হিসেবে গ্রহণযোগ্য করা হবে; এবং

৫.৯.৯     সারাদেশে ইন্টারনেট ব্রড ব্যান্ড সংযোগ নিশ্চিত করা এবং ব্যান্ডউইথ এর মূল্য সারদেশে যৌক্তিক রাখার প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে।

৫.১০     ঔষধঃ

৫.১০.১    ঔষধ শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে পাসবুক পদ্ধতি অথবা ভিন্নতর পদ্ধতি চালু করা যায় কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা হবে; এবং

৫.১০.২    ঔষধ খাতের রপ্তানি সম্ভাব্যতা বিবেচনায় এনে ঢাকা ও চট্টগ্রামে Active Pharmaceutical Ingredient পার্ক ও Common Lab প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেয়া হবে।

৫.১১     লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যঃ

৫.১১.১    হালকা প্রকৌশল (লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং) শিল্পের উন্নয়নের জন্য ঢাকার অদূরে ‘‘লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাস্টার ভিলেজ’’ গড়ে তোলা হবে; এবং

৫.১১.২    হালকা প্রকৌশল খাতের উন্নয়নের জন্য একটি অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরী ও কমন ফ্যাসিলিটিজ সেন্টার গড়ে তোলা হবে।

৫.১২     এগ্রো-প্রডাক্টসঃ

৫.১২.১    কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের মানোন্নয়ন ও মান নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘‘এগ্রো-প্রডাক্টস্ বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল’’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

৫.১৩     ভেষজ সামগ্রীঃ

৫.১৩.১    ভেষজ উদ্ভিদজাত ঔষধ ও সামগ্রী উৎপাদন এবং রপ্তানিতে উৎসাহ প্রদান করা হবে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন প্রয়োজনীয় এক্রিডেটেড সার্টিফিকেশন ল্যাবরেটরী স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হবে; এবং

৫.১৩.২    ভেষজ সামগ্রী খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য ‌Ôহারবাল প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

৫.১৪     জাহাজ নির্মাণ শিল্পঃ

৫.১৪.১    জাহাজ নির্মাণ শিল্পে ব্যাংক গ্যারান্টি কমিশনসহ অন্যান্য সার্ভিস চার্জ বাংলাদেশ ব্যাংক এর নির্দেশনা মোতাবেক সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা হবে; এবং

৫.১৪.২    জাহাজ নির্মাণ শিল্পে সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ সরবরাহের উদ্যোগে নেয়া হবে।

৫.১৫     অন্যান্য খাতঃ

৫.১৫.১    প্লাস্টিক পণ্য ও গার্মেন্টস এক্সেসরিজ পণ্যের পরীক্ষা ও সনদ প্রদানের জন্য এক্রিডেটেড ল্যাবরেটরী স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া  হবে। এ ছাড়া BSTI এ সকল পণ্যের মান পরীক্ষার ব্যবস্থা নিবে;

৫.১৫.২    স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলঙ্কার রপ্তানি প্রসারের লক্ষ্যে অলঙ্কার সামগ্রীর কাঁচামাল আমদানির সহায়ক নীতিমালা প্রণয়নসহ এ শিল্পকে উৎসাহিত করা হবে;

৫.১৫.৩   আমদানিকৃত অমসৃণ হীরা প্রক্রিয়াকরণের পর রপ্তানিকে উৎসাহিত করা হবে;

৫.১৫.৪     খেলনা ও ইমিটেশনের গহনা উৎপাদন এবং রপ্তানিতে উৎসাহ ও সহায়তা প্রদান করা হবে;

৫.১৫.৫   রপ্তানিমুখী সিরামিক শিল্পকে অব্যাহত গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়া হবে; এবং

৫.১৫.৬   মানসম্মত অর্গানিক উদ্ভিদজাত পণ্যসহ  অর্গানিক প্রডাক্টস রপ্তানিতে উৎসাহ প্রদান করা হবে।  

 

ষষ্ঠ অধ্যায় - সেবা খাত 

৬.০        সেবা খাত বলতে ডব্লিউটিও (WTO) এর General Agreement on Trade in Services (GATS) এর Mode-1, 2, 3, 4 এর অধীন নিম্নরূপ সেবাসমূহ বুঝাবে -

১.   তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ভিত্তিক কার্যক্রম;

২.   কনস্ট্রাকশন বিজনেস;

৩.   স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত যেমন, হাসপাতাল, ক্লিনিক,  নার্সিং সেবা;

৪.   হোটেল ও পর্যটন সংক্রান্ত সেবা;

৫.   কনসাল্টিং সার্ভিসেস;

৬.   ল্যাবরেটরী টেস্টিং;

৭.   ফটোগ্রাফি কার্যক্রম;

৮.   টেলিকমিউনিকেশনস্;

৯.   পরিবহন ও যোগাযোগ;

১০. ওয়্যারহাউস ও কনটেইনার সার্ভিস;

১১.  ব্যাংকিং কার্যক্রম;

১২.  লিগ্যাল ও প্রফেশনাল সার্ভিস;

১৩.  শিক্ষা সেবা;

১৪.  সিকিউরিটি সার্ভিস;

১৫. প্রিশিপমেন্ট ইনস্পেকশন (পিএসআই);

১৬.  আউটসোর্সিং এবং

১৭. ইন্ডেন্টিং সার্ভিসেস ।

 

৬.১        রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো সেবা খাতে রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন দপ্তর সংস্থার সাথে সমন্বয়পূর্বক একটি সমন্বিত প্ল্যান অব এ্যাকশন প্রণয়ন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে;

৬.২        রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরো পণ্য খাতের পাশাপাশি সেবা খাতের রপ্তানি পরিসংখ্যান তৈরীরও উদ্যোগ গ্রহণ করবে;

৬.৩        সেবা খাতে রপ্তানি উন্নয়নের জন্য বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হবে;

৬.৪        বিভিন্ন সেবা খাত ভিত্তিক বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল গঠন করা হবে;

৬.৫        বিএফটিআই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেবা খাতের রপ্তানির প্রচারনার ব্যবস্থা করবে; এবং

৬.৬        সেবা খাতের বিভিন্ন সেবা রপ্তানির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে বিএফটিআই সমীক্ষা পরিচালনা করবে।

    

সপ্তম অধ্যায় - রপ্তানি উন্নয়নের বিবিধ পদক্ষেপসমূহ

৭.১         ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এসআরও নং ১৮-আইন/২০০৮/২১৭৪/শুল্ক, তারিখ ১৩-১-২০০৮ যোগে জারিকৃত ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্স(লাইসেন্সিং কার্য পরিচালনা) বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী ফ্রেইট ফরওয়ার্ডার্সগণ পরিচালিত হবে;

৭.২       অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চতকরণে বাংলাদেশ ব্যাংক, কাষ্টমস, চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর আধুনিকীকরণ, স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়ন করা হবে;

৭.৩         সকল রপ্তানিমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য Express Line নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে এবং শিল্পে ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস চার্জ ভর্তুকি সহকারে যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে;

৭.৪         গভীর সমুদ্র বন্দর, মংলা বন্দরে পর্যাপ্ত কন্টেইনার জাহাজ এবং ক্যাপিট্যাল ড্রেজিং-এর ব্যবস্থা করা হবে;

৭.৫         কৃষি পণ্য রপ্তানির জন্য বিমানে অতিরিক্ত স্পেস বরাদ্দসহ পৃথক কার্গো বিমানের ব্যবস্থা এবং বিমান ও জাহাজ ভাড়া যুক্তিসংগত হারে  হ্রাস করা হবে;

৭.৬        বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃক ইউরোপের সাথে নিয়মিত “Cargo Freighter Service” প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয়া হবে;

৭.৭         অঞ্চলভিত্তিক রপ্তানি বৃদ্ধির  লক্ষে¨ এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের উপর গুরুত্ব দেয়া হবে;

৭.৮        পণ্য পরিবহনে রেল সার্ভিসকে উৎসাহিত করার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক আকর্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক ভাড়ার হার নির্ধারণের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করে দেখা হবে;

৭.৯         রপ্তানি ক্ষেত্রে মহিলা উদ্যোক্তাদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে প্রতি বছর মহিলা সিআইপি নির্বাচন ও শ্রেষ্ঠ মহিলা উদ্যোক্তাদের রপ্তানি ট্রফি প্রদান করা হবে;

৭.১০       রপ্তানি উন্নয়নের জন্য বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহের তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হবে; এবং

৭.১১       পণ্য ভিত্তিক রপ্তানিকে উৎসাহিত করার জন্য প্রতিবছর একটি পণ্যকে ‘‘প্রডাক্ট অব দি ইয়ার (Product of the year)” ঘোষণা করা হবে।

৭.১২     মূল্য সংযোজন হার যৌক্তিকীকরণঃ

৭.১২.১    একটি স্ট্যান্ডিং কমিটি সময় সময় তৈরী পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের মূল্য সংযোজন হার নির্ধারণ করবে;

৭.১২.২    বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে কোন বিদেশী পতাকাবাহী জাহাজ মেরামত বাবদ প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রত্যাবাসিত হয়েছে শর্তে তা সেবা খাতে রপ্তানি আয় হিসেবে গণ্য করা হবে।

 

পরিশিষ্ট-১ রপ্তানি নিষিদ্ধ পণ্য তালিকা

৮.১        সয়াবিন তেল, পাম অয়েল।

৮.২    (ক)     প্রাকৃতিক গ্যাস উদ্ভূত পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য (যথাঃ ন্যাপথা, ফারনেস অয়েল, লুব্রিক্যান্ট অয়েল, বিটুমিন, কনডেনসেট, এমটিটি ও এমএস) ব্যতিরেকে সকল পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত দ্রব্য। তবে প্রডাকশন শেয়ারিং কণ্ট্রাক্ট-এর আওতায় বিদেশী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক চুক্তি মোতাবেক তাদের হিসাবের পেট্রোলিয়াম ও এলএনজি রপ্তানির ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।

           (খ)      রপ্তানি নিষিদ্ধ ও শর্ত সাপেক্ষে রপ্তানিযোগ্য পণ্য ব্যতীত ব্যক্তিগত মালামালের অতিরিক্ত হিসেবে বাংলাদেশে তৈরী ২০০ (দুই শত) মার্কিন ডলার মূল্যমানের পণ্য কোন যাত্রী বিদেশে যাওয়ার সময় একোম্প্যানিড ব্যাগেজে সংগে নিতে পারবেন। এরূপে বিদেশে নেয়া পণ্যের বিপরীতে শুল্ক কর প্রত্যর্পণ/ সমন্বয়, ভর্তুকি  ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা প্রদানযোগ্য হবে না।

৮.৩     পাটবীজ ও শনবীজ।

৮.৪      গম।

৮.৫      চাল (সরকার হতে সরকার পর্যায়ে চাল এবং সুগন্ধি চাল ব্যতীত)।

৮.৬        ২০১২ সালের বণ্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন (২০১২ সনের ৩০ নং আইন) এর ধারা ২৯ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি-

               (ক) বহির্গমন শুল্ক বন্দর ব্যতীত অন্য কোন পথে;

             (খ) প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, সাইটিস (CITES)সার্টিফিকেট ব্যতীত; এবং

             (গ) লাইসেন্স ব্যতীত-

             কোন বণ্যপ্রাণী বা তার অংশ, ট্রফি, অসম্পূর্ণ ট্রফি, অথবা তফসিল ৪ এ উল্লিখিত উদ্ভিদ বা তার অংশ বা তা হতে উৎপন্ন দ্রব্য রপ্তানি বা পুনঃ রপ্তানি করতে পারবেন না।

৮.৭        আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ।

৮.৮       তেজস্ক্রিয় পদার্থ।

৮.৯        পুরাতাত্ত্বিক দুর্লভ বস্ত্ত।

৮.১০      মনুষ্যকঙ্কাল, রক্তের প্লাজমা অথবা মনুষ্য অথবা মনুষ্য রক্ত দ্বারা উৎপাদিত অন্য কোন সামগ্রী।

৮.১১     সকল প্রকার ডাল (প্রক্রিয়াজাত ডাল ব্যতীত)।

৮.১২       চিল্ড, হিমায়িত ও প্রক্রিয়াজাত ব্যতীত অন্যান্য চিংড়ি।

৮.১৩     পেঁয়াজ, রসুন ও আদা।

৮.১৪       হরিণা ও চাকাসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রজাতির PUD, Cooked চিংড়ি ছাড়া 71/90  Count বা তার চেয়ে ছোট আকারের সামুদ্রিক চিংড়ি।

৮.১৫      বেত, কাঠ ও কাঠের গুড়ি/স্থূল কাষ্ঠ খন্ড (এই সব দ্বারা প্রস্ত্ততকৃত হস্তশিল্প সামগ্রী ব্যতীত)।  তবে বনশিল্প কর্পোরেশন এর রাবার কাঠ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় অবস্থিত ফার্নিচার শিল্পের উপাদান হিসেবে রপ্তানি করা যাবে যা প্রচ্ছন্ন রপ্তানি হিসেবে বিবেচিত হবে। উক্ত ফার্ণিচার শিল্পসমূহকে বর্ণিত কাঠ দিয়ে প্রস্ত্ততকৃত ফার্ণিচার রপ্তানির হিসাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের  নিকট দাখিল করতে হবে।

৮.১৬      সকল প্রজাতির ব্যাঙ (জীবিত অথবা মৃত) ও ব্যাঙের পা।

৮.১৭     কাঁচা, ওয়েট-ব্লু চামড়া।

 

পরিশিষ্ট-২ শর্ত সাপেক্ষে রপ্তানি পণ্য তালিকা

৯.১         ইউরিয়া ফার্টিলাইজার-কাফকো ব্যতীত অন্যান্য ফ্যাক্টরীগুলিতে প্রস্ত্ততকৃত ইউরিয়া ফার্টিলাইজার শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমতির ভিত্তিতে রপ্তানি করা যাবে।

৯.২        বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান, গান, নাটক, ছায়াছবি, প্রামাণ্য চিত্র ইত্যাদি অডিও ক্যাসেট, ভিডিও ক্যাসেট, সিডি, ডিভিডি ইত্যাদি ফর্মে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সাপেক্ষে রপ্তানি করা যাবে।

৯.৩        প্রাকৃতিক গ্যাস উদ্ভূত পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য (যথাঃ- ন্যাপথা, ফারনেস অয়েল, বিটুমিন, কনডেনসেট, এমটিটি ও এমএস) জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অনাপত্তি সাপেক্ষে রপ্তানি করা যাবে। তবে কোন প্রকার শর্ত ব্যতিরেকে লুব্রিকেটিং ওয়েল রপ্তানি করা যাবে এবং এ ক্ষেত্রে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে রপ্তানির পরিমাণ বিষয়ক তথ্য অবগত করতে হবে।

৯.৪         রাসায়নিক অস্ত্র (নিষিদ্ধকরণ) আইন, ২০০৬ এর তফসিল ১, ২ ও ৩ এ বর্ণিত রাসায়নিক দ্রব্যাদি উক্ত আইনের ৯ ধারার বিধান মোতাবেক রপ্তানি নিষিদ্ধ বা রপ্তানিযোগ্য হবে।

৯.৫        চিনি।

৯.৬       ইলিশ মাছ।

৯.৭       বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে সুগন্ধি চাল রপ্তানি করা যাবে।

৯.৮       বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যক্তিগত বা  যৌথ উদ্যেগে প্রতিষ্ঠিত খামারে উৎপাদিত কুমিরের কাঁচা চামড়া ও মাংস পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি/ অনাপত্তির ভিত্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রপ্তানির অনুমতি প্রদান করবে।

Download Bengali: Export Policy 2015-2018
Member Area

Search this Site
Contents
Search Trade Information 
 
 
 
Export  Resources
 
 
 
Import Resources
 
 
 
 
Feature Information for Entrepreneur
 
 Follow Us
 
         
 
Upcoming Events